হাটহাজারীতে সাপরিনা জান্নাত মাহিরা নামের দুই মাসের এক কন্যা শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে শিশুটির নিজ পিতা ওসমান গণির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক হাবিব ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯ টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ চারিয়া মুরাদপুর গ্রামের ইব্রাহীম মেম্বারের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু সাপরিনা জান্নাত মাহিরা ওই বাড়ির ওসমান গণি ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কন্যা শিশু।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ভিকটিম মাহিরার পিতা রং মিস্ত্রি মো.ওসমান গনি তার স্ত্রী সুমাইয়াকে তাকে চা দিতে বলে। এ সময় ভিকটিম মাহিরা তার মা সুমাইয়া আক্তারের কোলে ছিল। তখন ওসমান গনি ভিকটিমকে তার মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে উপর থেকে মাটিতে পরপর দুইবার আছাড় মারলে গুরুতর আহত হয় শিশুটি।
এ সময় পরিবারের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহত শিশুটিকে নিয়ে পিতা ওসমান গনি ও তার ছোট ভাইসহ অন্যান্যরা হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করলে লাশটি বাড়িতে নিয়ে যায়।
এ সময় ঘাতক পিতা ওসমান গনি পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ও অফিসার ইনচার্জ মো.জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। পরে নিহত শিশু মাহিরার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো.মুসা জানান, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার পর থেকেই ঘাতক পিতা ওসমান গণি পলাতক রয়েছে।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশু মাহিরার চাচা রোমান (২৫) কে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।












