হল্যান্ড থেকে

ফ্রান্স জ্বলছে: ম্যাক্রোর শেষ রক্ষা বুঝি হলো না, উগ্র ডানপন্থী নেতা ল পেনের উত্থান কি অবশ্যম্ভাবী

বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া | শনিবার , ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

ফ্রান্সের চলমান সহিংস আন্দোলন, বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং অরাজকতা দেখে একটি বহুল প্রচলিত কথা মনে পড়লো। কথাটি হলো– ‘রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন।‘ নিরো কি আসলেই বাঁশি বাজাচ্ছিলেন ওই দুঃসময়ে? এই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রোমান ইতিহাসবিদ ট্যাকিটাসের মতে, ‘এটি ছিল নিছক গুজব, যার কোন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা পাওয়া যায়নি।‘ ইতিহাস বলে, রোমে যখন আগুন লাগে তখন সম্রাট নিরো ছিলেন রোম থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দূরের শহর আন্টিয়ামে, তার ব্যক্তিগত বাসভবনে। অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে সম্রাট নিরো রোমে ফিরে আসেন এবং পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন। তবে জনগণের মধ্যে সন্দেহ থেকেই যায়। অনেকে মনে করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই আগুন লাগিয়েছিলেন, কারণ তিনি পরবর্তীতে সেই পুড়ে যাওয়া এলাকাতেই গড়ে তোলেন তার ‘গোল্ডেন প্যালেস’ এবং আশপাশের বিলাসবহুল বাগান। এই ঘটনাকে ঘিরে যে বহুল প্রচলিত কথা– রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন– তার দুটি অর্থ থাকতে পারে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। এক, নিরো তার প্রজাদের দুঃখ–দুর্ভোগে উদাসীন ছিলেন বলে তিনি বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। দুই, তিনি সংকটকালে এক ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয় শাসকের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

সম্রাট নিরোর সাথে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল মেক্রোর বেশ মিল খুঁজে পাই। চলতি মাসের শুরু থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর জুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ যখন চলমান তখন এই ব্যাপারে আপাতঃদৃষ্টিতে অনেকটা উদাসীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট মেক্রো ব্রিটানি উপকূলের কাছে একটি যুদ্ধজাহাজে সময় কাটাচ্ছিলেন বলে সংবাদে প্রকাশ। জানা যায়, হাজার হাজার হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর প্রতিবাদে রাস্তায় মিছিল করছিল, তখন ম্যানুয়েল মেক্রো ফরাসি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে নুতন ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য অবলোকন করছিলেন। রাজপথের সমস্যা সমাধানের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন তার প্রধান মন্ত্রীর উপর, যিনি ফরাসি জনগণকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে থাকে এবং তার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে ১৭ অক্টোবর। প্রেসিডেন্ট মেক্রো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেন উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে। ব্যর্থ হলেন প্রেসিডেন্ট হবার আগে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে ম্যানুয়েল মেক্রো যখন দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি ছিলেন তরুণ ও আত্মবিশ্বাসী। সে–সময় ফ্রান্সকে স্থবির ও উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতুশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেখা গেলো তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি প্রমাণ করলেন তিনি ব্যর্থ। অন্তত সাধারণ ফরাসি জনগণ এখন তাই মনে করছে বলে ধারণা। তিনি ফ্রান্সকে বাঁচাতে পারেননি। গেল রোববার ফরাসি প্রেসিডেন্ট মেক্রো যখন জনসমক্ষে কথা বললেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিক্ষোভ গোটা দেশে সহিংস দাংগায় আকার ধারণ করে এবং এর সাথে ছাত্র ছাড়াও বাইরের অনেক মানুষ, অছাত্র যুক্ত হয়েছে। যুক্ত হয় অনেক লুটেরা, দাঙ্গাকারী, যারা দোকানপাঠ লুট করেছে, অগ্নিসংযোগ করেছে এবং সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা এমনকী লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলেও অগ্নিসংযোগ করে তা গুড়িয়ে দেয়। যারা এই সমস্ত কর্মকান্ড করেছে তারা কিছুতেই শিক্ষার্থী হতে পারে না এবং কিছুতেই মূল–ফরাসি হতে পারেনা, মন্তব্য জনৈক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর। উনিশ শতকের এই সিটি হলে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

২) বড্ড বেকায়দায় আছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল মেক্রো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর মাত্র ছয় মাস বাকি। ইতিমধ্যে, প্রায় গোটা দেশ জুড়ে চলছে সহিংস বিক্ষোভ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকহারে বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ক্লাসরুম, বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া ইত্যাদি ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের শুরু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে নিকট অতীতে এই ধরনের সহিংস বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সব চাইতে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় মেক্রো সরকার চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকার একে শেষ পর্যন্ত সামলাতে সক্ষম হবেন কিনা সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন থাকলেও ফ্রান্সের জনগণ এই জ্বালাও–পোড়াও, সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ‘আন্দোলনের নামে গত ১৭ অক্টোবর স্মরণাতীতকালের যে ভয়াবহ সহিংস বিক্ষোভ দেখা গেলো, তা জনগণের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকবে‘ বলে মন্তব্য করলো ফরাসি পত্রিকা, ল মন্ড। ওই পত্রিকা আরো উল্লেখ করে, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মত অসহনীয় ঘটনার পাশাপাশি এক ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতাও দেখা যায়, যা সরাসরি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে চালনা করা হয়। বিভিন্ন শহরের সিটি হল এবং প্রশাসনিক কার্যালয়গুলিকে টার্গেট করা হয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। আইন প্রয়োগকারীদের সাথে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ প্রায় আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাকারীকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দাঙ্গাকারীদের আক্রমণে আহত হন। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি শহরে আক্ষরিক অর্থে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। এদিকে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার জন্যে প্যারিস ও মার্সেই সহ বড় বড় নগরীর মেয়ররা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার পদত্যাগ পত্র জমা দিলে প্রেসিডেন্ট মেক্রো তা গ্রহণ করেননি বলা সংবাদে প্রকাশ। প্রধান মন্ত্রী যে সমস্ত শহরে এই ভাঙচুর, লুট ও অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটেছে সেই সমস্ত শহরের মেয়রদের প্রয়োজনে কার্ফু জারি করতে বলেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে।

৩) ফরাসি সাংবাদিক কেট্রিন বেনহোল্ড এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘এই সপ্তাহান্তে ফ্রান্সকে জ্বলতে দেখে আমার ২০১৭ সালের সেই মুহূর্তটির কথা মনে পড়ে গেল, যখন ইমানুয়েল মেক্রো ‘পরিবর্তন, আশা এবং বলা যায়, বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি ‘জবাড়ষঁঃরড়হ‘ (রেভোল্যুশন) নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন, যা ছিল উগ্র ডানপন্থীদের পরাজিত করার লক্ষ্যে এক ধরনের ইশতেহার। ব্রেক্সিট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথমবার নির্বাচিত হবার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মেক্রো সত্যিই মেরিন ল পেনকে পরাজিত করেছিলেন। সে সময় আমি লন্ডনে থাকতাম। সেখানে অনেক ফরাসি পরিবার ছিল, যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবকিছু ছেড়ে ফ্রান্সে ফিরে গিয়েছিলেন, যাতে তারা মেক্রোর সেই আন্দোলনের অংশ হতে পারে। প্রায় এক দশক পর পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মেরিন ল পেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা আগের চাইতে অনেক বেশি। আজ আমি লিখছি কীভাবে মেক্রো হয়তো শেষ পর্যন্ত একটি ‘বিপ্লব পেতে যাচ্ছেন। তবে সেটি এমন বিপ্লব নয়, যা তিনি চেয়েছিলেন।‘ ভয় সেখানেই। রাজনৈতিক খেলায় প্রতিপক্ষ সব সময় তক্কে তক্কে থাকে কখন মোক্ষম মুহূর্ত আসে এবং সেই সুযোগ নেবে। ল পেনের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। তিনি অপেক্ষা করেননি বিন্দুমাত্র। এমনিতেই এই ঘটনার আগে, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনমত জরিপে ল পেন এগিয়ে ছিলেন। সংঘটিত সহিংসতার পর যখন মেক্রোর সরকার এবং উগ্র বামপন্থীরা দাঙ্গার জন্যে একে অপরকে দোষারূপ করায় ব্যস্ত তখন ল পেনের দল, ‘ন্যাশনাল রেলি‘ সময় ক্ষেপণ না করে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়ে। ন্যাশনাল রেলির প্রেসিডেন্ট জর্দান বারদেল্লা বলেন, ‘মানুষের এখন জেগে উঠার সময় হয়েছে। তাদের সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রস্তুত।‘

৪) এদিকে ফ্রান্সের এই সহিংস বিক্ষোভের জন্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অভিবাসন‘ বা ‘ইমিগ্রেশন‘কে সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘অভিবাসীরা (মাইগ্রেন্টসরা) সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ থেকে আসা একদল মানুষ– যাদের হৃদয়ে রয়েছে ঘৃণা – তারা এক সময়কার এই মহান দেশটির (ফ্রান্স) অধঃপতনের জন্যে দায়ী।‘ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে মাইগ্রেন্টস আসা বন্ধ করার জন্যে পদক্ষেপ নেবার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘অনেক দেরি হয়ে যাবার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিন।‘ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আহবানে অনেকে সমালোচনা করলেও ফরাসিদের বিশাল জনগোষ্ঠী এখন তেমনতর পদক্ষেপ নেবার পক্ষে। ‘একথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবেনা যে শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে পরিণত করার পেছনে যারা রয়েছে তারা মূলত ছাত্র নয়, এবং বেশির ভাগই ভিন্ন সমাজ এবং ভিন্ন বিশ্বাস থেকে আসা‘, মন্তব্য প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাসরত এক অভিবাসীর।

লেখা শেষ করবো সেই ফরাসি সাংবাদিকের উদ্ধৃতি দিয়ে। ফরাসি সাংবাদিক কেট্রিন বেনহোল্ড লিখেছেন, মেক্রোর তুলনামূলক কম বয়স এবং উদ্দীপনামূলক বাগ্মিতার কারণে এক সময় তার সঙ্গে বারাক ওবামার তুলনা করা হতো। ওবামার ‘আশার বাণীকে‘ তিনি নিজেও ধারণ করতে চেয়েছিলেন। তবে ওবামার মতোই মেক্রোর অভিজাত পরিচিতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ভোটারের কাছে তাকে সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন এক ব্যক্তি হিসাবে তুলে ধরেছে। বর্তমানে মনে হচ্ছে, মেক্রোর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তার কল্পনার চাইতে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে– এবং ওবামার উত্তরাধিকারের মতোই, তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাবার পর পরবর্তী সময়ে কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তার ওপরই এটি নির্ভর করবে। ( ২০–১০–২০২৬)

লেখক : সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলামিস্ট।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর শিক্ষা ও সমাজচিন্তা
পরবর্তী নিবন্ধজর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬