সড়ক নয়, জলাশয়!

বান্দরবান কালাঘাটা সড়কে দুর্ভোগ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান

শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

সড়ক নয়, এটি যেন কোনো জলাশয়! শুষ্ক মৌসুমেও বান্দরবান পৌর সদরের কালাঘাটা সড়কে হাঁটু পানি দেখে এমনই মন্তব্য করছিলেন পথচারীরা। খানা খন্দে ভরা সড়কটিতে হাঁটু পানি জমে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও। নোংরা পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে বান্দরবান পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা, ফ্রেন্সিঘোনা, বড়ুয়ারটেক পাড়ার বাসিন্দারা। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোয়াংছড়ি উপজেলাগামী এবং সরকারি বিভিন্ন অফিস ও স্কুল-কলেজে যাওয়া লোকজনের। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে সড়কের দু’পাশের দোকান-গুলোতেও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বান্দরবান পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডটি অপরিকল্পিত ও নোংরা আবর্জনায় ভরপুর। এই ওয়ার্ডের কালাঘাটা, ফ্রেন্সিঘোনা, বড়ুয়ারটেক, বাহাদুর নগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পাহাড়ি-বাঙালি কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। এছাড়াও সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত অনাথ শিশুদের ‘শিশু পরিবার’ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। বাহাদুর নগর থেকে বড়ুয়াটেক পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় অফিস ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনা যেন কয়েকগুণ বেড়েছে। শীত কিংবা বর্ষা সারাবছরই সড়কটির অবস্থা অনেকটা একই রকম। পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছাড়াও রোয়াংছড়ি উপজেলায় যাওয়ার বিকল্প সংযোগ সড়কও এটি।
কালাঘাটার বাসিন্দার মিলন, টিটু ও নয়ন বলেন, সড়কটির সমস্যা দীর্ঘদিনের। পাহাড় কেটে বসতি স্থাপনের ফলে বৃষ্টিতে মাটি এসে ভরে গেছে ড্রেনগুলো। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের ব্যবহারের পানিগুলোও সরে যাচ্ছে না। অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে ব্যবহৃত ময়লা-আবর্জনাযুক্ত নোংরা পানিগুলো রাস্তায় জমে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছে। বর্ষায় এই সড়কের অবস্থা আরো বেগতিক। নতুন যে কেউ এসে মনে করতে পারেন, এটি সড়ক নয়, জলাশয়! কিন্তু কর্তৃপক্ষ উদাসীন। যেন দেখার কেউই নেই।
গণপরিবহনের চালক আবু জাফর ও মো. মাসুম বলেন, নতুন ব্রিজের পর থেকে তুমব্রু পাড়া রাস্তারমুখ পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা। সড়কের মধ্যখানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরপুর সড়কটি। এছাড়া শিশু পরিবার গেইট থেকে বড়ুয়ারটেক মোড় পর্যন্ত সড়কটি নোংরা পানিতে ডুবে থাকে। এটি জলাশয় নাকি রাস্তা দূর থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। সড়কের বেহালদশায় প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
পৌর কাউন্সিলর অজিত দাস বলেন, মাটি জমে পানি নিষ্কাশনের রাস্তাগুলো ভরে গেছে। পানি অপসারণের কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। এগুলো সরে গেলে বালি-কংক্রিট ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবী বলেন, পাহাড়ের মাটি জমে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে। ব্যবহারের পানি সড়কে জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার কাজও করা হবে।

x