সড়ক খুঁড়ে ফেলা রাখা হয়েছে, কালভার্ট অসম্পূর্ণ

রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ঠিকাদারের অবহেলা, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সংস্কারের নামে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে দুই বছর। কালভার্টের কাজ অসম্পূর্ণ। এর মধ্যে কোনো কাজ না হওয়ায় বর্ষার শুরুতে দুর্ভোগে পড়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সীমান্তবর্তী উত্তর নোয়াগাঁও এলাকার প্রায় ৫০০ পরিবারের ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ। যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় স্থবির ওই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

এলজিইডি রাঙ্গুনিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা ও ছয়টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। শান্তিরহাটগুইয়াতলা সড়কের উত্তর নোয়াগাঁও এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি দুই বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যে রাস্তাটির পুরনো পিচ ও খোয়া তুলে বড় বড় গর্ত করে খনন করা হয়। কিন্তু খননকাজ শেষ করার পরপরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে রক্তছড়ি ছড়ার ওপর একটি কালভার্টের কাজ মাঝপথে অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে ৮ মাস ধরে। চলতি জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক।

সরেজমিনে দেখা যায়, একদিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড, অন্যদিকে পোমরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড। এই দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কের সীমান্তে খালের ওপর কালভার্টের কাজ অসম্পূর্ণ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। স্থানীয় বাসিন্দারা উপায়ান্তর না দেখে কালভার্টের এক পাশে কাঠের তক্তার একটি বিপজ্জনক ফ্রেম লাগিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন এটা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, এলাকায় কেউ মারা গেলে অসম্পূর্ণ কালভার্টটির কারণে লাশবাহী খাটিয়া এপার থেকে ওপারে আল্লামা রূমি মাদ্রাসার মাঠে জানাজার জন্য আনার কোনো উপায় থাকে না। একটিমাত্র কালভার্টের অসম্পূর্ণ কাজের কারণে বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে হুইলচেয়ারে চলাচল করা স্থানীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রিফাত হাসান। সে পোমরা নঈমীয়া তৈয়্যবিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল শিক্ষার্থী। গত আট মাস ধরে সে ঠিকমতো মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। আগামীকাল ২৫ জুন তার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু রাস্তা ও কালভার্টের এই অবস্থার কারণে সে কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাবে, সেই চিন্তায় দিন কাটছে তার পরিবারের। একইভাবে কোনো মুমূর্ষু বা গর্ভবতী রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও বর্তমানে এই এলাকায় নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে কাজের মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবির কথা তুলে ধরে স্থানীয় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আরফাতুল ইসলাম নয়ন বলেন, সড়কটি খুঁড়ে ভেতরের ভালো মাটি ঠিকাদার চড়া দামে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করার কথা থাকলেও তার বদলে ভরাট করা হয়েছে নরম পাহাড়ি মাটি দিয়ে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে। বর্তমানে রিকশা, ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবদুল মাবুদ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বিপজ্জনক অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আলী এন্টারপ্রাইজসংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি বিবেচনা করে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার কারণে মাঝখানে কাজ বন্ধ ছিল। এখন কাজ পুরোদমে শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে দুয়েকদিনের মধ্যে। আশা করি শীঘ্রই কাজটি শেষ হবে।

এদিকে স্থানীয়রা সড়কে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানকে মৌখিকভাবে এই বিষয়ে অভিযোগ করেন। ইউএনও বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। জনভোগান্তি দূর করতে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক ও কালভার্টের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করা যায়, সেই লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় রাস্তা খুঁজুন
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬