স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে অ্যাপোলো-ইমপেরিয়াল হাসপাতাল

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ভূমিমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

অ্যাপোলো হাসপাতাল ভারতে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এখন জয়েন্ট ভেনচারে তারা ইমপেরিয়ালের সাথে সেবা দেবে। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য ভালো একটি খবর। তাদের এই জয়েন্ট ভেনচার চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

গত শনিবার অ্যাপোলো-ইমপেরিয়াল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এসব কথা বলেন। ইমপেরিয়ালের বোর্ড মেম্বার ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন, ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডি ও কো-চেয়ারম্যান ডা. প্রিথা রেড্ডি।

বক্তব্য রাখেন ইমপেরিয়ালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, গ্রুপ অংকোলজি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট দীনেশ মাধবান, অ্যাপোলো পার্টনার হসপিটালের সিইও দেবীসন পিকে। স্বাগত বক্তব্য দেন, ইমপেরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। অন্যদের মাঝে সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবুল মোমেন, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডা. ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন, াতীয় অধ্যাপক ও চবির সাবেক উপাচার্য ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মু. সিকান্দার খান, প্রাক্তন লায়ন্স জেলা গর্ভনর কামরুন মালেক প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল শুধুমাত্র হাসপাতাল নয়, এটাকে পাঁচ তারকা মানের হাসপাতাল বলা যায়। এর অবকাঠামো-স্ট্রাকচার অনেক সুন্দর। কোভিডকালীন এই হাসপাতালের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি। তারা যেভাবে কোভিড রোগী হ্যান্ডেল করেছে তা অসাধারণ। হেলথ কেয়ারে অ্যাপোলো একটি স্ট্রং নাম। যেটি জানলাম, তারা এখন থিম পরিবর্তন করেছে। মানুষকে কীভাবে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখা যায়, এখন তারা সেদিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। ইমপেরিয়াল এখন থেকে অ্যাপোলোর সাথে জয়েন্ট ভেনচারে সেবা দেবে। এটি অবশ্যই ভালো খবর। কারণ সবার পক্ষে সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ড গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বিদেশে গিয়ে যাদের চিকিৎসার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্যই এই অ্যাপোলো-ইমপেরিয়াল হাসপাতাল প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ভূমিমন্ত্রী।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল সার্ভিস ছিল না বললেই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে বা হচ্ছে। অ্যাপোলোকে ধন্যবাদ, তারা এখানে যৌথভাবে সার্ভিস শুরু করছে। ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের নার্সিং সার্ভিস খুবই প্রশংসাযোগ্য উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সেখানে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা দেখেছি, রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে সিনিয়র নার্সই প্রাথমিকভাবে চিকিৎসককে ব্রিফ করছেন। কী করা উচিত, সেটিও বলে দিচ্ছেন। ভারতের নামকরা এই প্রতিষ্ঠানের (অ্যাপোলোর) সাথে এখানে যৌথভাবে যে সেবা দেয়া হবে, তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এজন্য চট্টগ্রামবাসী গর্বিত। যত বেশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের কলাবোরেশন হবে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিসও তত বেশি উন্নত হবে। শুধু হাসপাতাল সার্ভিসে সীমাবদ্ধ না রেখে এখানে (ইমপেরিয়ালে) একটি করে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ চালু করতে অ্যাপোলোর সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী।

সাংবাদিক ও কবি আবুল মোমেন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি অ্যাপোলো-ইমপেরিয়াল হাসপাতাল বিশ্বমানের মেডিকেল সার্ভিস দেবে। চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক শহর। এখানে ভিন্ন জাতি, গোত্র, সংস্কৃতির মানুষের বসবাস। সেবাদানের লক্ষ্যে অ্যাপোলো এখানে এসেছে। তারা সঠিক জায়গাটি বেছে নিয়েছে। অ্যাপোলো-ইমপেরিয়াল হাসপাতাল স্বল্প সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয় জয় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এ হাসপাতালের ইনফ্রেস্টাকচার ওয়ার্ল্ড ক্লাস। সবকিছুই ওয়ার্ল্ড ক্লাস। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় মিলিয়ন মানুষ ভারতে যান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। এর মাঝে বড় একটি অংশ যায় কলকাতায়। সেখানে অ্যাপোলো খুবই পপুলার একটি নাম। এখন অ্যাপোলো হাসপাতাল আমাদের ঘরের দুয়ারে এসে হাজির। অ্যাপোলোর সহযোগিতায় চট্টগ্রামের মানুষ ঘরের দুয়ারেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

স্বাগত বক্তব্যে ইমপেরিয়ালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, আমরা সুখী। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অ্যাপোলো হাসপাতালের সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে উন্নততর চিকিৎসা দিতে পারবো বলে আশা রাখি। এই চুক্তির মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের আদলে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে যৌথভাবে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা সেবা ও পরবর্তী ফলোআপ সেবা পাওয়া যাবে। এতে করে দেশের বাইরে যাওয়ার কষ্ট, অর্থ এবং সময় সাশ্রয় হবে। তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগ আমাদের জন্য গর্বের বিষয়, কারণ ইতোমধ্যে এই শিশু বিভাগ তার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।

সভাপতির বক্তব্যে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, এই হাসপাতাল (ইমপেরিয়াল) সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ। বলতে গেলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি পুরানো। কিন্তু এই হাসপাতালের যন্ত্রপাতিগুলো সে তুলনায় নতুন। এতদিন ধরে উন্নত মানের সেবা প্রদানে হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান এম এ মালেক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ও অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ইমপেরিয়াল হাসপাতালের অপারেশন এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যাপোলো হাসপাতালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা জনশক্তি প্রশিক্ষণ, টেকনোলজি ট্রান্সফার, টেলিমেডিসিন ও টেলি রেডিওলজি সেবা প্রদানে সহযোগিতা করবে অ্যাপোলো।