
শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উর্বর চারণভূমি চট্টগ্রাম। শুধু ইতিহাস সৃষ্টির জনপদই নয়, বরং শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার এক নিবিড় মেলবন্ধন এ অঞ্চলে রচিত হয়েছে স্বাধীনতা অর্জনের বহু আগে থেকেই। চট্টগ্রাম বরাবরই অনেক কিছুর পথিকৃৎ। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ কিংবা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর চট্টগ্রাম শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা যে কোনো অঞ্চলের চাইতে সমৃদ্ধ। ইতিহাস তাই বলে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোর জনপ্রিয়তা আঞ্চলিকতা ছাড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পেরও রয়েছে অনেক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ প্রকাশনাগুলো থেকে প্রচুর মানসম্মত বই প্রকাশিত হয়। ঢাকার পাশাপাশি একুশের বইমেলা চট্টগ্রামেও হয় প্রতিবছর। এই বইমেলাকে উপলক্ষ্য করে প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে প্রচুর বই প্রকাশিত হয়। বলা যায় প্রকাশনা শিল্পে চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রা সেই স্বাধীনতা পূর্ব সময় থেকেই। প্রকাশনা শিল্পের এই হাত ধরেই চট্টগ্রামে এগিয়েছে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশনা। এই লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশনা কারো ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়েছে আবার কখনো কখনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেও এগিয়েছে। লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী সাধারণ পত্রিকা থেকে ভিন্ন এক ধরনের প্রকাশনা। এটা অনেকেই সখের বশে প্রকাশ করেন। লেখালেখির অভ্যাস থেকে মনের তাগিদে অন্যরকম এক ভালোলাগার অনুভূতিতে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশ করা হয়। এখানে ব্যক্তিগত রুচিবোধেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটে। লিটল ম্যাগ ও সাময়িকীর মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। লিটল ম্যাগ মুনাফা বা বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়। এটি আকারে অনেকটা ছোট হয়। মুখে মুখে আমরা সবাই একে লিটল ম্যাগই বলে থাকি। বাণিজ্যিক পত্রিকা বা পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সাহিত্য সাময়িকীর বিপরীতে এটি একটি বিকল্প চিন্তা ও চর্চার একটি প্ল্যাটফর্ম। আর সাময়িকী হলো একটি নিয়মিত ধরনের প্রকাশনা। এটি সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়। সাময়িকীর বিষয়বস্তু, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা অনেক বেশি বিস্তৃত হয়। লিটল ম্যাগের মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন বা প্রচারসংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং নতুন ও উদ্ভাবনী সাহিত্য সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় নতুন লেখকদের জন্য এটি একটি লেখালেখির বিশেষ ক্ষেত্র। আর সাময়িকীগুলোতে সমসাময়িক খবর ছাড়াও সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান, বিনোদন, রাজনীতি, ফ্যাশনের মত বিষয়গুলো স্থান করে নেয়। সাময়িকী বিভিন্ন ধরনের হয় যেমন–সাহিত্য সাময়িকী: বিষয় ভিত্তিক সাময়িকী, সাধারণ সাময়িকী ইত্যাদি। লিটল ম্যাগের শুরুর ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপ ও আমেরিকায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সূচনা ঘটে। টি.এস.এলিয়টের মতো বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিকদের শুরু কিন্তু লিটল ম্যাগ দিয়েই। লিটল ম্যাগাজিন শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা চিন্তার স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার খুলে দেয়। বাংলা সাহিত্যে লিটল ম্যাগের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজ পত্র’(১৯১৪) এবং বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ (১৯৩৫) পত্রিকাকে বাংলা লিটল ম্যাগ আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয়। আর চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশনেরও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় উনিশ শতকের শেষভাগ থেকেই চট্টগ্রামে সাময়িকী প্রকাশের ধারা শুরু হয়। ১৯০৬ সালে প্রকাশিত আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সম্পাদিত ‘কোহিনূর’ এবং ১৯১২ সালে প্রকাশিত ‘সাধনা’ পত্রিকা চট্টগ্রামের সাহিত্যচর্চায় নতুন এক দ্বার উন্মোচন করে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে বের হয় ‘চট্টগ্রাম পরিষদ’, ‘সৌরভ’, ‘পাঞ্চজন্য’–র মতো গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীগুলো, তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জাগরণে বিশাল এক ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন ও স্থানীয় সাহিত্য–ঐতিহ্যের বিকাশ ও প্রচারে এই পত্রিকাগুলোর বিশেষ অবদান রয়েছে। ষাট ও সত্তরের দশকে যে লিটল ম্যাগ আন্দোলন গড়ে ওঠে, সে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে অনেক প্রতিভাবান কবি সাহিত্যিক উঠে আসেন। আন্দোলনের সে জোয়ারে আমাদের চট্টগ্রামও পিছিয়ে ছিল না। এখানে স্বাধীনতা উত্তর পরবর্তী সময় একদল নবীন প্রবীণ সাহিত্যকর্মীর হাত ধরে এগিয়ে গিয়েছে লিটল ম্যাগ প্রকাশনা। সেই প্রকাশনায় কোনো এক সময় গতি ছিল প্রচুর আবার কোনো সময় তা ধীর গতিতে এগিয়েছে। তবে তা কোনো সময় একেবারে স্থবির হয়ে পড়েনি। বর্তমানে সেই লিটল ম্যাগের চর্চা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ পত্রিকার সাথে পাল্লা দিয়ে লিটল ম্যাগ বা সাময়িকীর হাত ধরে আমাদের চট্টগ্রামের শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গন সমৃদ্ধই হচ্ছে। বাংলাদেশে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় চট্টগ্রামের সাময়িকী ও লিটল ম্যাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সবাই হয়তো দৈনিক পত্রিকাগুলোকে সামনে রাখেন, কিন্তু অন্তরালে যে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকীগুলো যে বিরাট অবদান রাখেন তা হয়তো অনেকেই তেমনভাবে সামনে নিয়ে আসেন না। ১৯৪৭–এর সময় দেশভাগ এবং ১৯৫২–এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে অসংখ্য সৃজনশীল, মননশীল, নিরীক্ষাধর্মী লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশিত হযেেছ। তবে এক্ষেত্রে সাময়িকীর চেয়ে লিটল ম্যাগের সংখ্যাই বেশি। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতা উত্তরকালে প্রকাশিত যে উল্লেখযোগ্য কিছু সাময়িকী ও লিটল ম্যাগ হয়েছে সে আলোচনায় যাবার আগে স্বাধীনতা অর্জনের একটু পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় ১৯৪৭ সালে মাহবুব–উল–আলম চৌধুরী ও সুচরিত চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সীমান্ত’ সাময়িকীটি ভাষা আন্দোলন ও প্রগতিশীল সাহিত্য চর্চার ইতিহাসে এক মাইল ফলক। এটি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত একটানা প্রকাশিত হয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশনার বেশ গৌরবজ্জ্বল পথ চলা আমাদের শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। চট্টগ্রামে লিটল ম্যাগের যে জোয়ার শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দশকগুলোতে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত অসংখ্য সাহিত্যপত্র ও লিটল ম্যাগাজিনের মধ্যে ‘প্রতীক’ অন্যতম। ১৯৭০ ও ১৯৮০–র দশকে চট্টগ্রাম থেকে যেসব সাহিত্য ও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়ে স্থানীয় সাহিত্যচর্চা ও তরুণ লেখকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, ‘প্রতীক’ তার মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতা অর্জনের ঠিক পরে চট্টগ্রামে ১৯৭২ সালে তিনটি লিটল ম্যাগ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। সে তিনটি হলো ১৯৭২ সালে শাহ আলম পিন্টু সম্পাদিত ‘যুগান্তর’, সুবীর মাহমুদ সম্পাদিত ‘অন্যান্য’ এবং ১৯৭২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সুদীপ দেওয়ানজী সম্পাদিত একুশের সংকলন ‘শেষ থেকে শুরু’। সত্তর দশকের দিকে স্বাধীনতার পরপরই চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রকাশিত অন্যতম প্রথম ও ঐতিহাসিক লিটল ম্যাগটি সম্পাদনা করেছিলেন কাজল কান্তি দে। ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত কাজল কান্তি দে সম্পাদিত ‘হাজারী লেইন ৭১–৭৪’ লিটল ম্যাগাজিনের উদ্বোধনী সংখ্যা প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রামে প্রকাশিত লিটল ম্যাগের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম দিকের প্রকাশিত সংকলনগুলোর মধ্যে একটি সমৃদ্ধ সংকলন। ‘হাজারী লেইন’ এর প্রথম সংখ্যায় প্রবন্ধ লেখেন রণজিৎ চক্রবর্তী, খালেদা হানুম, দিলীপ মালাকার এবং শওকত হাফিজ খান রুশ্নি। ‘হাজারী লেইন’ প্রথম সংখ্যায় তেইশ জন কবির কবিতা প্রকাশ করা হয়। কবিরা হলেন ড.এনামুল হক, আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ, আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, দিবাকর বড়ুয়া, দিলওয়ার হোসেন, আলতাফ হোসেন, আবুল মোমেন, কাজী ইনামুল হক দানু, ময়ুখ চৌধুরী. অরুণ কান্তি দাশ, দীপক জ্যোতি আইচ, সৈয়দ সহিদুল হক, মোহাম্মদ আশরাফ, বিপ্লব বিজয় বিশ্বাস, কাজী রফিক, শিশির দত্ত, ফারুক আহমেদ, সন্তোষ ধর, কঙ্কন নন্দী, ফরিদা বেগম মেরী, জাকারিয়া মামুন, পরেশ গুপ্ত ও বিষ্ণু দে। প্রথম সংখ্যায় গল্প ছাপা হয় সুচরিত চৌধুরী, মানস পাল, প্রদীপ দস্তিদার ও সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীর। ‘স্মৃতিচারণ’ শিরোনামে শেফালিকা দত্ত, ‘একটি নাম এক–দুই–তিন’ শিরোনামে সুভাষ দাশগুপ্ত (রূপম) এবং ‘হাজারী লেইনের ইতিকথা’ শিরোনামে দীপক জ্যোতি আইচ এর আর্টিক্যাল প্রকাশ করা হয় হাজারী লেইন এর প্রথম সংখ্যার একেবারে শেষে। কাজল কান্তি দে সম্পাদিত ‘হাজারী লেইন’ প্রথম সংখ্যায় সম্পাদকীয়ের পরপরই ছাপা হয়েছিল তখনকার প্রয়াত বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে ‘মৃত্যু–জল্পনা’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ। এরপর তপন বড়ুয়া সম্পাদিত ‘গাণ্ডীব’ নামের লিটল ম্যাগাজিনটি সে সময়ের তরুণ লেখকদের সাহিত্যচর্চার অন্যতম মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। এটি আশির দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী একটি লিটল ম্যাগ ছিল। কবি ও গবেষক তপন বড়ুয়ার সম্পাদনায় এটি চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে সমকালীন প্রগতিশীল ও নতুন লেখকদের সাহিত্যচর্চার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ও আশির দশকের উল্লেখযোগ্য পত্র–পত্রিকাগুলোর মধ্যে খন্দকার আখতার আহমেদের ছড়া সামপ্রতিক, মোশতাক দাউদী‘র ছররা, ছড়াকার সংগঠনের রাইমার্স এলবাম, রাইমস্টার, শামসুল হক হায়দারীর নিষিদ্ধ ছড়া, সুখময় চক্রবর্তীর ছড়া, মাহবুবুল হকের সাহসী ঠিকানা, আবুল মোমেনের ফুলকি, রাশেদ রউফ সম্পাদিত দুরন্ত, অথৈ, কবিতার কাগজ, শিশুসাহিত্য, প্রেরণা, বাঙালি, শিশুমেলা, শঙ্খ, বিপুল বড়ুয়া সম্পাদিত ছড়া সংকলন মৌরী ও সাহিত্যেও লিটল ম্যাগ অক্ষর, বিপুল বড়ুয়া ও দীপক বড়ুয়া সম্পাদিত মোক্ষ (ধর্মীয় প্রকাশনা) ও ঋভু, বিপুল বড়ুয়া ও রমজান আলী মামুন সম্পাদিত কিশোর সমাবেশ, দীপক বড়ুয়া সম্পাদিত চর্যা, শিশুমেলা, গোপন গোলাপ ও খোকন, সাহেদুল ইসলাম জিল্লু সম্পাদিত কিশোরকাল, দেবাংশু হোড় সম্পাদিত রক্তে বেজেছে উৎসব, ওমর কায়সার সম্পাদিত মধ্যাহ্ন, শিশু ও মুক্তিযুদ্ধ, সংকেত, মাহবুবুল হাসানের টইটম্বুর, যেটি ১৯৭৮ সালে প্রথম বের হয় ও এরপর ছড়া পত্রিকা, কেশব জিপসী ও জসীম মেহবুবের সম্পাদনায় পালকি, সুমন ইসলামের অব্যয়, আহসান মালেকের জলসিঁড়ি, বিপ্লব বিজয় বিশ্বাসের সম্পাদনায় মৃগয়া, অরুণ শীলের সম্পাদনায় ১৯৮৪ সালে ছড়ায় ছড়ায় একুশ, আশিষ দত্ত কেশবের টুকটুকে কাল রক্ত পলাশ ও প্রশ্নবোধক, মঈনুদ্দিন কাজলের অটবি, ওমর কায়সার, অজয় দাশগুপ্ত ও উত্তম সেনের যৌথ সম্পাদনায় ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাইরে, বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও ওমর কায়সারের যৌথ সম্পাদনায় দ্রৌপদী, অমিত চৌধুরীর সম্পাদনায় মূল্যায়ন, সুজন বড়ুয়ার জুঁই চামেলি ফুলের বোঁটা, মুহাম্মদ শামসুল হক সম্পাদিত ইতিহাসের খসড়া, আজাদ বুলবুল সম্পাদিত কথাকোবিদ, শৈবাল চৌধুরী সম্পাদিত ডিপফোকাস, জামসেদুর রহমান সজীব মুদ্রণশিল্প, মিয়া মনসফের রিনিঝিনি, ফারুক হাসানের কথন, খালেদ সরফুদ্দীনের পায়রা, এমরান চৌধুরীর রোদ্দুর, নাজিম হাসানের ঘূর্ণি, শিবপ্রসাদ সম্পাদিত পরিচয় পত্রিকা, ছড়াশিল্পী উৎপলকান্তি বড়ুয়া সম্পাদিত ঝিনুক, ঘাসফড়িং গঙ্গাফড়িং, ঝিকিমিকি, লিমেরিক, স্বাধীনতার ছড়া, সৈয়দ ওমর ফারুক ও অমিত বড়ুয়া সম্পাদিত বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সবুজ আসর, আসমা বীথি সম্পাদিত ঘুড়ি, মাহমুদ নোমান সম্পাদিত দেয়াঙ, গোফরান উদ্দীন টিটু সম্পাদিত কচিহাত ও রাদিয়া, বিশ্বজিত চক্রবর্তীর যোগসূত্র, ইলিয়াস বাবর সম্পাদিত স্রোত ও সুচক্ররেখা, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর সম্পাদিত কথা, অরুণ সেন সম্পাদিত ঋতপত্র, শেখর দেব সম্পাদিত শাখ, মনিরুল মনির সম্পাদিত খড়িমাটি, আলী প্রয়াস সম্পাদিত তৃতীয় চোখ, মনজুর কাদের সম্পাদিত কঙ্কাল, মঈন ফারুক সম্পাদিত চন্দ্রবিন্দু, তাপস চক্রবর্তী সম্পাদিত ঝাড়বাতি, প্রদীপ প্রোজ্জ্বল সম্পাদিত প্রোজ্জ্বল, মোস্তফা হায়দার সম্পাদিত সাগরকন্যা, তরুমন, আহমেদ পলাশ সম্পাদিত শৈলিকা, আল জাবিরী সম্পাদিত লাটিম, মিনহাজ মুহাম্মদ সম্পাদিত লহরি, আবু ওবাইদা আরাফাত সম্পাদিত নক্ষত্র, কাজী সাইফুল হক সম্পাদিত দুর্দম, সোহেল তাজ সম্পাদিত আলোর পথে, শোয়েব নাঈম সম্পাদিত সবুজ আড্ডা, সাবিনা পারভীন লীনা সম্পাদিত অমলতাস, সাজিদুল হক সম্পাদিত বিকল্প ভাষ্য, মিজান মনির সম্পাদিত নাগরিক চোখ, রাজীব রাহুল সম্পাদিত কথাশিল্প, শফিক মোরশেদ সম্পাদিত সন্তরণ, হাসনাত সৌরভ সম্পাদিত সমরেখ, আকবর চৌধুরী সম্পাদিত সেঁউতি,
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম সম্পাদিত ইদানীং, দেবব্রত সেন সম্পাদিত সবুজের জয়গান, ইউসুফ মোহাম্মদের সাহিত্য সাময়িকী গল্প সামপ্রতিক ও লিটল ম্যাগ তোলপাড়, দিলওয়ার চৌধুরী সম্পাদিত লিটল ম্যাগ এপিটাফ, দ্বিমাসিক কবিতা সাময়িকী ষড়জ, সন্তাপ, নিমগ্ন, শোকার্ত উচ্চারণ, ইলু ইলিয়াছ সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী অবসর, আবু মুসা চৌধুরী সম্পাদিত কর্ণফুলীর মাঝি ও সুসমাচার, সোহেল ফখরুদ্দীন সম্পাদিত ‘কিরাত বাংলা’ ও ‘ঢোল’ প্রভৃতির নাম বিশেষভাবে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এগুলোর কিছু নিয়মিত কিছু অনিয়মিত ও কিছু কয়েকসংখ্যা মাত্র বের হয়। স্বাধীনতা উত্তর সত্তর দশকের দিকে ‘অঙ্গন’ নামের লিটল–ম্যাগটিও উত্তর চট্টগ্রামে তরুণ কবি–সাহিত্যিকদের উদ্যোগে বের হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় প্রকাশনা ছিল। চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক সাহিত্য ভাবনায় ‘অঙ্গন’ পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘অচিরা’ নামের লিটল ম্যাগটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল। তার এক কি দুইটা সংখ্যা কবি শাহিদ আনোয়ার সম্পাদনা করেছিলেন। আবার পদাতিক নামের আরেকটা লিটল ম্যাগাজিনের একটা সংখ্যা কবি শাহিদ আনোয়ার সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়াও এই চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত নিম্নের লিটল ম্যাগগুলোর নাম উল্লেখ করা যায়। যেমন– সামগ্রিক শিশুসাহিত্য সংকলন স্পর্শ, প্রতীতি, কবিতা, মনন, রোববার, মফস্বল, সূর্যোদয়, সম্পাদক, চর্যা, হরিৎ, দ্রৌপদি, লিটল ম্যাগাজিন, শব্দের সংসার, ক্ষত্রিয়, দেশকাল, অনোমা, প্রসঙ্গ, চারুকৃৎ, বহ্নি, প্রাচী, তরঙ্গ, চর্চা, জলধি, অন্যধারা, অক্ষর, খড়কুটো, পেন্সিল, নান্দীক, স্পার্ক জেনারেশনের অসভ্য শব্দ ইত্যাদি। অনেক লিটল ম্যাগের প্রকাশনা এর মধ্যে হারিয়ে গেছে, হয়তো অল্প কয়েকটা মাত্র টিকে আছে। হাফিজ রশিদ খান আশির দশক ও তার পরবর্তী সময়ে সম্পাদনা করেছেন আলোকসম্পাত, রেনেসাঁস, কবিতা, ধানের শীষে গান, বৃষ্টি, চারণ, সাহিত্যিকা নামের লিটল ম্যাগ। ১৯৯১ সাল থেকে সমুজ্জল সুবাতাস এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ‘পুস্পকরথ’ সম্পাদনা করে আসছেন। কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ‘পুষ্পকরথ’ সাহিত্য পত্রিকার জন্য তিনি লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার লাভ করেন। আশি ও নব্বইয়ের দশককে বলা যায় চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশের সময়কে স্বর্ণযুগ বলা যায়। কবি এজাজ ইউসুফী সম্পাদিত ‘লিরিক’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত ও বৃহৎ লিটল ম্যাগাজিন–যা কবিতা ও মননশীল প্রবন্ধের জন্য সমাদৃত হয়েছিল। তিনি লিটল ম্যাগ লিরিক সম্পাদনায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত ‘লিটল ম্যাগাজিন সম্মাননা ২০২২’ লাভ করেন। শোয়ায়েব মুহামদ ও জাহেদ মোতালেব সম্পাদিত সারেং ও অনুপমা অপরাজিতা সম্পাদিত অণু বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাহবুবুল হাসান সম্পাদিত ছড়াপত্রিকা এ পর্যন্ত সুকুমার বড়ুয়া, আবুল খায়ের মুসলেহ উদ্দিন, আল মাহমুদ, আবু সালেহ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, হাসান হাফিজ, লুৎফর রহমান রিটন, রাশেদ রউফকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। এর প্রথম সংখ্যা বের হয় ১৯৯৩ সালে। নেছার আহমেদ সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘শিল্পশৈলী’ চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম মুখপত্র। ২০১৯ সালের মার্চে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ‘শিল্পশৈলী’র পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিবছর প্রবন্ধ সাহিত্যে ‘চট্টগ্রাম একাডেমি শিল্পশৈলী প্রবন্ধ সাহিত্য পুরস্কার’ দেয়া হয়। উৎপলকান্তি বড়ুয়া সম্পাদিত ‘চেরাগ’ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা উৎপলকান্তি বড়ুয়ার সম্পাদিত ছড়া সংকলন। মিজানুর রহমান শামীম সম্পাদিত ‘প্রতীকী’ লিটল ম্যাগ থেকেও বেশ কয়েকজন গুণী ছড়াকারকে ছড়াসাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ফারুক হাসানের সম্পাদনায় ‘কথন’ জনপ্রিয় একটি লিটল ম্যাগ ছিল। কথনের প্রথম সংখ্যা বের হয় ১৯৮৭ সালে। এ লিটল ম্যাগ থেকে এক সময় ‘কথন শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ দেয়া হতো। ফারুক হাসানের মৃত্যুর পর এর প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। এমরান চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিশু–কিশোর সাময়িকী ‘আলোর পাতা’। ডিসেম্বর ২০১৭ তে প্রথম এর সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ছড়া ও কিশোরকবিতার ওপর এটি বিশেষ সংখ্যা বের করে। অমিত বড়ুয়া সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘কিশোরবেলা’। এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে। এ লিটল ম্যাগ থেকেও ‘কিশোরবেলা মুজিবুর রহমান শিশুসাহিত্য’ পুরস্কার দেয়া হয়। আখতারুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ছোটদের কাগজ কলম’–এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল জানুয়ারি ২০১১ তে। এখন তাঁর সম্পাদনায় ‘আনন্দপুর’ নামে একটি লিটল ম্যাগ প্রকাশিত হচ্ছে। এই আনন্দপুর থেকে ২০২৬ সালে প্রথম শিশুসাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়। সামপ্রতিক কালে বৃদ্ধি পেয়েছে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকীর প্রকাশনা। এগুলোর মধ্যে কিছু নগর ভিত্তিক প্রকাশনার পাশাপাশি স্থানীয় উপজেলা ভিত্তিক প্রকাশনাও রয়েছে। আজিজ রাহমান সম্পাদিত সাময়িকী শৈলী সাহিত্য বুলেটিন, কাসেম আলী রানা সম্পাদিত ছড়া সাময়িকী ছড়াশৈলী, ইসমাইল জসীম সম্পাদিত কিশোরশৈলী, জসিম উদ্দিন খান সম্পাদিত কবিতাশৈলী, আয়েশা হক শিমু সম্পাদিত নন্দনশৈলী, নুরুল আবসার সম্পাদিত আন্দরকিল্লা, মিজানুর রহমান শামীম সম্পাদিত রংপেন্সিল, সজল দাশ সম্পাদিত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার লিটল ম্যাগ আঞ্চলিক, খালেদ হামিদী সম্পাদিত তবুও উপনিবেশ, বিপ্লব বড়ুয়া সম্পাদিত অভিমুখ, শারুদ নিজাম সম্পাদিত পরিবেশ ও জীবন, রুনা তাসমিনা সম্পাদিত অনন্য ধারা, শাহারিয়ার ফারজানা সম্পাদিত নারী কণ্ঠ, নান্টু বড়ুয়া সম্পাদিত আলোড়ন, সেলিম তালুকদার আকাশ সম্পাদিত আলোর প্রত্যাশা, মাহবুবা চৌধুরী সম্পাদিত নীল কলম, অনিক শুভ সম্পাদিত আমাদের রঙধনু, অর্ণব বড়ুয়া সম্পাদিত কঞ্চি, মোঃ সাহাবুদ্দীন হাসান বাবু সম্পাদিত স্বাধীন কণ্ঠ, ইলিয়াছ হোসেন সম্পাদিত প্রগতি, আবদুর মতিন রিপন সম্পাদিত পলিমাটি, ইসরাফিল হোসেন ও হুমায়ুন আবিদ সম্পাদিত মোহনা, জাইদুল ইসলাম দুর্লভ সম্পাদিত ছুটি, মোসলেহ মহসিন সম্পাদিত বজরা, মীরসরাই থেকে প্রকাশিত আনোয়ারুল হক নিজামী সম্পাদিত ছড়ার আসর, হামীম রায়হানের সম্পাদনায় ইচ্ছেঘুুড়ি, সাজেদুল করিম ভূঁইয়া, শাহ সেকান্দর মিজান ও এস কে মাহমুদ সম্পাদিত সাহিত্যস্বর, সাজেদুল করিম ভূঁইয়া সম্পাদিত শিক্ষা সাময়িকী কলিকা, সমির মল্লিক সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক লিটল ম্যাাগ প্রকৃতি ও মহিউদ্দীন জুয়েল সম্পাদিত অন্যচোখে, কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত মনজুর কাদের সম্পাদিত কঙ্কাল প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। এখানে উল্লেখিত অনেক প্রকাশনা অনিয়মিত প্রকাশ হয়। নিয়মিত প্রকাশিত এরকম লিটল ম্যাগের সংখ্যা খুব কম। সংবাদ প্রকাশনা হিসাবেও লিটল ম্যাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে অনেক লিটল ম্যাগ সে এলাকার সংবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ রাখে। সে রকম কয়েকটি হলো সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার সম্পাদিত মাসিক ফটিকছড়ি, আহমদ আলী চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক ফটিকছড়ি সংবাদ, হাটহাজারী কণ্ঠ, রাউজান কণ্ঠ, ফটিকছড়ি কণ্ঠ ইত্যাদি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে একটি নতুন সাহিত্যভাবনা ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। বলা যায় চট্টগ্রাম ছিল চিন্তা চেতনার অন্যতম পাদপীঠ। চট্টগ্রামের কবি সাহিত্যিকরা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে নান্দনিক, নিরীক্ষাধর্মী ও মননশীল নানা সাময়িকী ও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা উত্তরকালে চট্টগ্রাম থেকে অসংখ্য সৃজনশীল, মননশীল ও নিরীক্ষাধর্মী লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগ প্রকাশনা বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও এর সৃজনশীল আবেদনের কারণে এখনো প্রকাশনা জগতে উজ্জ্বল হয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগ ও সাময়িকীর প্রকাশনা চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি অনেক লেখকও তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগ ও সাময়িকী নিয়ে লেখার জন্য প্রকাশিত সংখ্যার পরিসংখ্যানে যে তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন তা সঠিক ও শতভাগ নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা কঠিন। এ লেখাতেও সে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সে সীমাবদ্ধতা তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনে সমন্বয় করা যেতে পারে। চট্টগ্রামে লিটল ম্যাগ ও সাময়িকীর প্রকাশনার পৃষ্ঠপোষকতা আমাদের এ অঞ্চলকে শিল্প সাহিত্যে সমৃদ্ধ করবে।
তথ্য সূত্র : ১.স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিন ‘হাজারী লেইন’–জাহেদুল আলম, ২.সামপ্রতিক শিশুসাহিত্য পাতা–সাময়িকী–লিটল ম্যাগাজিন – হাসনাত আমজাদ
লেখক : প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক; সহকারী অধ্যাপক, বিএমসি ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম।












