স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করুন ।। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন

ডা. সাকেরা আহ্‌মেদ

শনিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
149

স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম। বিশ্বে মহিলাদের ক্যান্সার এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর দিক থেকে স্তন ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়। আমেরিকাতে প্রতি ৮ জন মহিলার ১ জনের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে। বাংলাদেশেও এই ক্যান্সারের প্রকোপ ও ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। যদিও বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে কিন্তু যে কোন বয়সের মহিলা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। যে সমস্ত মহিলার মা, বোন, খালা অথবা নানীর এই ক্যান্সারের ইতিহাস আছে তাদের এই ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামুলক ভাবে বেশী থাকে। কাজেই এদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা প্রয়োজন অর্থাৎ ঝপৎববহরহম করা প্রয়োজন। এছাড়া ওজনাধিক্যতা/স্থুলতা, ধুমপান, মদ্যপান, দুশ্চিন্তা, জন্ম নিয়ন্ত্রন বড়ি সেবন (দীর্ঘমেয়াদী), হরমোনের ঔষধ সেবন ইত্যাদি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে গর্ভবতী হওয়া এবং বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় বলে ধারনা করা হয়।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ কি? এক কথায় বলতে গেলে স্তনে কোন গোটা বা চাকা আছে কিনা সেটাই বলতে হবে আর এটাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের প্রধান লক্ষন এবং বেশীর ভাগ রোগী এই লক্ষন নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। মনে রাখতে হবে এই গোটা বা চাকা হয় ব্যাথাহীন। ব্যথা থাকেনা বলেই রোগীরা অনেক দেরীতে ডাক্তারের সরনাপন্ন হন। তাই ব্যাথাহীন কোন গোটা বা চাকা অনুভব হলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কেউ কেউ আবার স্তনের বোটা থেকে রসনিঃসরন, কিংবা বোটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া অথবা চামড়া কুঁচকে যাওয়া এমনকি বোগলে গোটা নিয়েও ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারে। খুব বেশী দেরী করলে ব্রেস্টে ঘা নিয়ে উপস্থিত হতে পারে অথবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে গিয়ে সে অনুযায়ী বিভিন্ন লক্ষন নিয়ে আসতে পারে। যেমন লিভারে ছড়ালে জন্ডিস, হাড়ে ছড়ালে তীব্র কোমড় ব্যাথা, ফুসফুসে ছড়ালে শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি নিয়ে আসতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে খুব প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার কোনরকম লক্ষন ছাড়াও হতে পারে। কাজেই যারা ঐরময জরংশ অর্থাৎ যাদের হবার সম্ভাবনা বেশী তাদের ঝপৎববহরহম করা প্রয়োজন।
স্তন ক্যান্সার ঝপৎববহরহম এর তিনটি অংশ আছে প্রথমটি হলো (ইঝঊ/ ইৎবধংঃ ঝবষভ ঊীধস) প্রতি মাসে এক বার করে (মাসিকের ৭ম দিনে হলে ভালো) নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা এবং কোন গোটা বা চাকা হাতে লাগলে তৎক্ষনাৎ ডাক্তারের কাছে যাওয়া। দ্বিতীয়টি হলো (ঈইঊ/ ঈষরহরপধষ ইৎবধংঃ ঊীধস) যেখানে ডাক্তার স্তন পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তৃতীয়টি হলো ম্যামোগ্রাম যা স্তনের একটি স্পেশাল এক্সরে। এই ঝপৎববহরহম এর উদ্দেশ্য হলো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরন যাতে রোগের চিকিৎসা সহজে হয় এবং রোগীর চৎড়মহড়ংরং/ফলাফল ভালো হয় অর্থাৎ রোগ সংশ্লিষ্ট জটিলতা কমে এবং রোগীর কষ্ট লাঘব হয়, পরিনতিতে রোগী দীর্ঘায়ু হয়। অতএব আসুন আমরা সবাই সচেতন হই, প্রতিমাসে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করি। কোন লক্ষন দেখলে ডাক্তারের সরনাপন্ন হই। ঐরময ৎরংশ রোগীদের ক্ষেত্রে ঝপৎববহরহম করাই। স্তন ক্যান্সারের ভয়াবহতা থেকে নিজে বাঁচি, অন্যকে বাঁচাই।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

x