সৈকত সংলগ্ন ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ আইন প্রত্যাহারের চেষ্টা হচ্ছে : এমপি কাজল

| রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ও নো ডেভেলপমেন্ট জোন–সংক্রান্ত আইন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। গতকাল শনিবার দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ১৯৯৫ ও ২০১৩ সালে প্রণীত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ও নো ডেভেলপমেন্ট জোন–সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে কক্সবাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনা টিকে থাকতে পারবে না বলে তার ধারণা। আমরা এই ইসিএ আইন তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা অচিরেই এই আইনগুলো তুলে দেব।

তবে এসব আইন তুলে দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সভায় পাওয়া যায়নি। সংসদ সদস্য কাজল বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন খাত থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায়। তার হিসাবে, বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হয়। সরবরাহকারীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের হিসাব ধরলে এর পরিমাণ ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনেক পর্যটন স্থাপনা অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সময় বিদ্যমান আইন ও পর্যটনশিল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ৫০০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের বিধিনিষেধ থাকলে পর্যটন অবকাঠামোর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

হোটেল–মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কক্সবাজারের হোটেলগুলোর অনুমোদন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণের পর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র বা অকুপেন্সি সনদ পেতে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। তিনি বলেন, এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে গেলে অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে পৌরসভার অনুমোদিত নকশার ভিত্তিতে অকুপেন্সি সনদ দিতে পারে না বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন। মুকিম খানের ভাষ্য, নতুন হোটেল বা রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন পেতেও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার বিধিনিষেধ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা কোনো না কোনোভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই রিসোর্টগুলো অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করছি, যার কারণে এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।

সভায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রচার এবং হোটেলে অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি দ্য সি প্রিন্সেস হোটেলে আগুন লাগার প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে। বারবিকিউ করার সময় আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সুপার বলেন, একটা অনুরোধ করে রাখি, গেস্ট লিস্ট আপনারা অনেক হোটেলে দেন, অনেকে দেন না। হোটেলগুলোকে অতিথিদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রশাসনকে সরবরাহ করার আহ্বান জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল ভাড়া দিলেই ব্যবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, অস্ত্র হাতে মহড়া