সুবিধামত নীতি বদলায় পশ্চিমারা : মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জয়শঙ্করের তোপ

| শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ফিনল্যান্ড সফরকালে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঘন ঘন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রত্যাহারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে গেলে ভারত রুশ তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, সে সময় জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিল। ভারতের বিরুদ্ধে ‘রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল’ এবং ‘রুশ তেল কিনতে বেশি আগ্রহী’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক। তার জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মূলত দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই তেল কিনি।

জয়শঙ্কর বলেন, সে সময় বাজারে রাশিয়ার তেলই ছিল সহজলভ্য। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো মূলত পশ্চিম এশিয়ার তেল কিনে নিচ্ছিল, যা ছিল আমাদের ঐতিহ্যগত জ্বালানি উৎস। উদ্ভূত পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

রাশিয়াকে ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী নীতির সমালোচনা করেন এবং এই বিষয়টিকে ‘অতিরিক্ত নৈতিকতার চাদরে’ না ঢাকার আহ্বান জানান। জয়শঙ্কর বলেন, এখন আপনারা দেখছেন, রুশ তেল কেনার জন্য প্রথমে আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই এখানে কোনো মহান আদর্শ জড়িয়ে আছে এমন ভান করার দরকার নেই। এ বিষয়টিকে ভণ্ডামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রুশ তেল কেনার জরিমানা। পরে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ও মার্কিন আদালতের রায়ের পর তা কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এদিকে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন নিজেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেয়। তবে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন ছাড় থাকুক বা না থাকুক, তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান মহান ব্যক্তি : ট্রাম্প
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী