সীমান্তে পুশ–ইন বন্ধ এবং দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাইসহ দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকার প্রতি আহবান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এ আহবান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন এনসিপির এই নেত্রী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– পুশ–ইনের প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ। আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা। সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক ও রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ। দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বিশেষকরে ভারতীয়দের বৈধতা যাচাইয়ে জরুরি জাতীয় অডিট করা। অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা ও দেশীয় দক্ষ জনবল উন্নয়ন ও ধাপে ধাপে বাংলাদেশি জনবল দ্বারা প্রতিস্থাপনের জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন।
এ ছাড়া আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে পুশ–ইন বিষয়ে সরকারি অবস্থান, বিদেশি কর্মীদের বিশেষ করে ভারতীয়দের বৈধতা যাচাইয়ের রূপরেখা এবং দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষার কর্মপরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। সামপ্রতিক সীমান্তে পুশ–ইনের ঘটনা এবং বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা, কর্মসংস্থান নীতি ও উচ্চপদে বিদেশি নির্ভরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুশরা। তিনি বলেন, যথাযথ যাচাই–বাছাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। বুশরা বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী বিশেষ করে ভারতীয়দের নিয়োগের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সাগুফতা বুশরা মিশমা বলেন, কতজন ভারতীয় বাসিন্দা বৈধ বা অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। আমরা চাই কতজন ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছে সরকার সেটা নিয়ে এনালাইসিস করুক, তথ্য প্রদান করুক এবং বাংলাদেশ তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জেনারেল ম্যানেজার নয়জন, তারা প্রত্যেকেই ভারতীয় বাসিন্দা। ১৮ জন এজিএম এর সবাই ভারতীয়। এতগুলো ভারতীয় নাগরিক থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানটাকে বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বলে গণ্য করবেন? রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টপ র্যাঙ্কিং এর ৪০ জনের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় নাগরিক। বাংলাদেশে দক্ষ জনবল থাকার পরেও জিএম–এজিএম এর মত পদে ভারতীয় কেন? রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ম্যানেজমেন্ট এবং টেকনিক্যাল ইস্যু এই পুরোটাই কিন্তু ভারতীয় নাগরিকদের হাতে। বাংলাদেশি একটা কোম্পানিতে ৮০ শতাংশ যদি ভারতীয় নাগরিক হয় তাহলে সেই কোম্পানির ফ্যাসিলিটিটা আদতে বাংলাদেশ কতটুকু পাবে? যেই কোম্পানিতে এতগুলো ভারতীয় জনবল সেই কোম্পানি আসলে কতটুকু বাংলাদেশকে ফ্যাসিলিটেট করতে পারে? তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান কোনো দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা বাংলাদেশের আইন, সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পক্ষে কথা বলছি। অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যেখানে দেশীয় দক্ষ জনবল রয়েছে সেখানে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি জনবল দ্বারা প্রতিস্থাপনের কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। বুশরা বলেন, সীমান্তে মর্যাদা এবং শ্রমবাজারে ন্যায্য অধিকার, উভয়ই বাংলাদেশের নাগরিকদের বৈধ দাবি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালিয়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক ডা. মোহাম্মদ খান, এনসিপির সিনিয়র নেতা সাজ্জাদ হোসেন, মনসুর আজম, এনসিপি মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব বদিউল আলম, সারোয়ার আলম, সহ–সংগঠানিক সম্পাদক মোস্তফা রাশেদ সুফি মিনহাজ, ছাত্রশক্তির মহানগরের নেতা ফজলে রাব্বী।












