সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা, আহত ১

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলা, আটক ৩

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | রবিবার , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড অলিনগরে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামের এক যুবদল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদলের কর্মী তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত শাওনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার সময় বাড়বকুণ্ডের অলিনগরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাপ্পি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ মিয়াজী পাড়া গ্রামের কোরবান আলী বাড়ির বাসিন্দা মৃত আলি আহমেদের ছেলে। আহত তাফসির আলম শাওন অলিনগর গ্রামের নতুন বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০–১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অলিনগর যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে গুলি ও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে বাপ্পি ও শাওনকে মারাত্মক জখম করে। আহতের পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শাওনকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ঐ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। তারই জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

নিহত বাপ্পির মা জমিলা খাতুন বলেন, আমার ছেলে তিন বছর সৌদি আরবে থাকার পর মাত্র দুই মাস হল দেশে ফিরেছে। ঘটনার দিন রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমি ছেলেকে বললাম–একটি আপেল কেটে দিই, খেয়ে বের হও। কিন্তু বাপ্পি বললো ‘মা আমি ফিরে এসে দুজনে মিলে একসাথে খাব এবং রাতের খাবারও একসাথে খাব’। এর কিছুক্ষণ পরে মাইকে একটি ঘোষণা শুনতে পেলাম-‘গ্রামে ডাকাত নামতে পারে তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে’। এ ঘোষণার পরে গ্রামের অনেকেই বলাবলি করছে, এলাকায় নাকি গোলাগুলি হয়েছে এবং বাপ্পিকে গুলি করেছে। এমন সংবাদ শোনার পর মনে হল আমার পৃথিবীটা যেন পুরোটাই ঘুরছে। মুহূর্তের মধ্যে নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম। বাপ্পির বাবা নেই। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি। কোনদিন ভাবিনি আমার আগে ছেলে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে যাবে। আমার ছেলে কার কী ক্ষতি করেছে? বাপ্পি কোনদিন এলাকার কারো ক্ষতি করেনি। সবার সাথে মিলেমিশে চলাফেরা করতো সে। প্রবাসে সে ভালই ছিল। কিন্তু মৃত্যু তাকে টেনে দেশে নিয়ে আসছে। দেশে এসে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি–আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। তাদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

নিহত বাপ্পির বড় বোন বলেন, কী অন্যায় ছিল আমার ভাইয়ের? তাকে যে এভাবে জীবন দিতে হলো! বাপ্পি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হাসিমুখে ঘর থেকে বের হয়েছে। কিন্তু ফিরলো সে লাশ হয়ে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, অলিনগরের ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় আমরা ৩ জনকে আটক করেছি এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বন্ধুদের বিরুদ্ধে
পরবর্তী নিবন্ধচলে আসায় বেঁচে যান নূর আলম