সাড়ে চার ঘন্টার স্বপ্ন যাত্রা শেষে ফুটবল ভবনে সাবিনারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

মতিঝিলের বাফুফে ভবন। দেশের ফুটবলের তীর্থ স্থান। এই বাবফুফে ভবনেই কেটেছে আজকের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা সাবিনা, কৃঞ্চা, রিতুমনি, মারিয়াদের। গত চার বছরেরও বেশি সময় এই বাবফুফে ভবনই ছিল নারি ফুটবলারদের ঘরবাড়ি। আর এই ঘরের যিনি প্রধান সেই কাজি সালাউদ্দিন যেন তাদের অভিভাবক থেকে সবকিছু। তাইতো দেশে ফিরে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবলারদের শেষ গন্তব্য ছিল নিজেদের বাস ভবন খ্যাত বাফুফে ভবন। যেখানে নিজের সন্তানতুল্য মেয়েদের বরন করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন কাজি সালাউদ্দিন। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকাল। অতঃপর সন্ধ্যায় সাবিনারা এসে পৌছান বাফুফে ভবনে। ততক্ষনে বাফুফে ভবনের চারপাশ লোকে লোকারন্য। তিল ধারনের ঠাই নেই কোথাও। বাস থেকে নামতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফুটবলারদের দর্শকদের ভীড় ঠেলে। তারপরও ঘরে ফেরার মহা প্রশান্তি যেন সাবিনাদের চোখে মুখে। প্রিয় অভিভাবকের সান্নিধ্য পেয়ে যেন তৃপ্ত ক্লান্ত শ্রান্ত ফুটবলাররা। আর সেখানেই বফুফে বস তার মেয়েদের বরন করে নিলেন পিতৃ স্নেহের মধুর আলিঙ্গনে।
সেই সকাল থেকে ভ্রমনের মধ্যেই রয়েছে বাংলার নারী ফুটবল যোদ্ধারা। সেই নেপালের রাজধানী কাটমন্ডু থেকে ঢাকা পর্যন্ত বিমান ভ্রমন। এরপর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মতিঝিলের বাফুফে ভবনে পৌছাতে আরো সাগে চার ঘন্টার পথ চলা। সব মিলিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া মেয়েদের বিশ্রামের সুযোগ করে দেন বাফুফে সভাপতি।
এরপর রাত নয় টায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন সাফ শিরোপা জয়ী নারী ফুটবল দল। বাফুফে সভাপতি ফুল দিয়ে এবং মিষ্টি খাইয়ে তার স্বপ্ন পুরন করা মেয়েদের বরন করে নেন। তবে সবচাইতে বড় যেটি ছিল সেটি হচ্ছে তার ভালবাসা। দুপুর ২ টার কিছু সময় আগে ঢাকায় পা রাখেন সাবিনারা। বিমান বন্দরের আনুষ্টানিকতা এবং সেখানে তাদের বরন করে নেওয়াপর আরো কিছু আনুষ্টানিকতা সারতে সময় লেগে গেছে প্রায় দেড় ঘন্টার মত। বিকেল সাড়ে তিনটায় মেয়েদের স্বপ্নের ছাদ খোলা বাসে তোলা হয়।
তারপর শুরু হয় বাফুফে ভবনের দিকে স্বপ্ন যাত্রা। যে রুটের কথা আগে তেকেই বলা হয়েছিল সে হিসেবে এক থেকে দুই ঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা ছিলনা। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষের এত ভালবাসা পেয়েছে যে নারী ফুটবলারদের বহনকারী গাড়িটি বিমানবন্দর থেকে কাকলী, জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মৌচাক, কাকরাইল, আরামবাগ, মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে বাফুফে ভবনে পৌছাতে লেগে যায সাড়ে চার ঘন্টার বেশি সময়। ছাদখোলা ‘চ্যাম্পিয়ন’ বাসটি যেদিকে গেছে সেদিকে পঙ্গপালের মত ছুটেছে ফুটবল পাগল ভক্তরা। বাঘিনীদের হাতে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের এই স্বর্ণকন্যাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। মেয়েরাও এই আবেগ ও ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন হাত নেড়ে। এ যেন চোখ জুড়ানো এক দৃশ্য। যে দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম দেখল মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি বলতে ভারতই। সেটা পুরুষ হোক কিংবা মহিলা। সাফ নারী কিংবা পুরুষ ফুটবলে সবচাইতে বেশি শিরোপা ভারতের। আর সেই ভরাতকে এবারে একেবারে বিধ্বস্ত করেছে সাবিনারা। শুধু তাই নয়, শ্রীলংকাকে দিয়ে মুরু করা বাংলার নারীরা একে একে হারিয়েছে পাকিস্তান এবং ভারতকে। সেমিফাইনালে উড়িয়ে দিয়েছে ভুটনাকে। আর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে। যে দলটির বিপক্ষে এর আগের ছয় দেখায় কোন জয় ছিলনা বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি পাঁচ দলকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মত সাফ ফুবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আর সেই সোনার কন্যাদের মধুর আলিঙ্গনে বরন করে নিল বাংলাদেশের ফুটবলের কর্তা ব্যাক্তি থেকে শুরু করে ফুটবল পাগল হাজারো মানুষ।