সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে চিঠি

| বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। খবর বিডিনিউজের।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অভিযানের সময় আজিজ আহমেদ ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক। পরে তিনি ২০১৮ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ইন্টারপোলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আদালতের আদেশের ভিত্তিতে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের জন্য সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাতে রেড নোটিশ দেওয়া হয়। তবে এটি নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। সংশ্লিষ্ট দেশে গ্রেপ্তার করা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত দেশটির নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে।

শাপলা চত্বরের মামলায় আজিজ : শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এর ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। হেফাজত নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, ওই রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি এসেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে ৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ চার জেলায় ওই অভিযানকে কেন্দ্র করে ৫৮টি হত্যার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। ২৭ জুলাই এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল সেদিন তা আমলে নিয়ে আসামিদের মধ্যে ‘পলাতক’ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, তাদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ একজন।

দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তে : শাপলা চত্বরের মামলা ছাড়াও আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুদক আজিজ আহমেদ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগের মধ্যে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে তখন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দেশেবিদেশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে অর্থ ও সম্পদ রাখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পত্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে হালদার জোয়ারের পানি লোকালয়ে, দুর্ভোগ
পরবর্তী নিবন্ধরাজধানীতে চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার কবলে মহিলা বাস