ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে নগরীর বায়েজিদ এলাকার সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে ভিকটিম শিশুর মা আমাতুল মাকনুন নালিশী মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় যাদের বিবাদী করা হয় তারা হলেন– সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী, সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী।
বাদীর আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শুরুর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একজন সিনিয়র চিকিৎসকের মতামত নিতেও নির্দেশ দেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি। মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ভিকটিম শিশুর জন্ম হয়। ওইসময় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাজিনাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট ছাড়া শিশুর অন্য কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু ৩০ মে ভিকটিম শিশুর মা দেখতে পান– নবজাতকের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে সামান্য বলে এড়িয়ে গেলেও পরদিন দেখা যায়, শিশুর বাম হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙ্গুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হলে ভিকটিম শিশুকে ঢাকার ইবনে সিনা ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতলে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর বাম হাতে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা করা এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী কেটে ফেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।












