সাঙ্গুর ভাঙনে এক মাসে শতাধিক একর আবাদি জমি বিলীন

সাতকানিয়ার কালিয়াইশ

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া | রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়ার কালিয়াইশে সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক একর আবাদি জমি। তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিদিনই নদীর পেটে যাচ্ছে সোনাফলা এসব জমি। গত এক মাস আগেও যেসব জমিতে নানা জাতের সবজি শোভা পাচ্ছিল সেসব জমি গিলে ফেলেছে সাঙ্গু নদী। ভাঙনের মুখে রয়েছে কয়েক শত একর আবাদি জমি। নদীর এমন ভয়াবহ ভাঙনের ফলে নিঃস্ব হচ্ছে জমির মালিক ও কৃষকরা।

গত শুক্রবার দুপুরে সাঙ্গু নদীর উত্তর কালিয়াইশ এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, যেসব জমি দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও আশপাশের জেলায় সবজির জোগান দিতো সেসব জমি গিলে ফেলছে রাক্ষসী সাঙ্গু। বাপদাদার রেখে যাওয়া এসব জমি হারিয়ে নদীর পাড়ে চলছে কৃষকের আর্তনাদ।

উত্তর কালিয়াইশ এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম কালু জানান, গত এক মাসে সাঙ্গু নদী গিলে ফেলেছে আমাদের আড়াই কানি আবাদি জমি। বন্যার আগে যেই জমিতে মুলা, বরবটি ও শাকসবজি আবাদ করেছিলাম সেই জমি এখন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো কিছু জমি। সাঙ্গু নদীর ভাঙন আমাদের সর্বশ্বান্ত করে দিয়েছে। তিনি জানান, শুধুমাত্র নদীর ভাঙনের ফলে আমার বুদ্ধির পর থেকে তিন বার ঘর বাঁধতে হয়েছে। ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯১ সালে দুই বার ভেঙে বিলীন করে দিয়েছে আমাদের বসত ঘর। আমাদের ঘরের জায়গা গুলো ভাঙতে ভাঙতে এখন নদীর অপর পাড়ে চলে গেছে।

একই এলাকার কৃষক মনছুর আলী জানান, আমার ৪৭ বছর বয়সে নদীর ভাঙনে দুই বার বসত ঘর হারিয়েছি। এবারের ভাঙনে আবাদি জমি হারিয়েছি। গত এক মাসে নদীর ভাঙনে আমার বাপদাদার রেখে যাওয়া ১৫ গন্ডা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যার আগে এসব জমিতে বরবটি খেত ছিল। পুরো জমি এখন নদীর পেটে চলে গেছে। আমার পুরনো বাড়ি ভিটা এখন নদীর মাঝখানে। এখন সম্বল বলতে ১৩ গণ্ডা জমি আর তৃতীয় বার বাধা থাকার ঘরটি রয়েছে। বাকী সব জমি নদীর পেটে চলে গেছে। উত্তর কালিয়াইশ এলাকার বিধবা ইয়াছমিন আকতার জানান, আমার কোনো ছেলে সন্তান নাই। ৪টি মেয়ে রয়েছে। আমাদের দেড় কানি জমি ছিল। নিজের জমি এবং খাজনা দিয়ে অন্যের জমি নিয়ে চাষ করে চলতাম। তিন মাস আগে স্বামীকে হারিয়েছি। নদীর ভাঙনে এখন এক কানি জমি হারিয়েছি। পুরো এক কানি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন শুধুমাত্র ১০ গন্ডা জমি রয়েছে। এ অবস্থায় মেয়েদের নিয়ে কিভাবে দিন পার করবো বুঝে উঠতে পারছি না। একই এলাকার কৃষক ইলিয়াছ খোকন জানান, গত এক মাসের ভাঙনে আমার দেড় কানি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যার আগে এসব জমিতে চিচিঙ্গা, বরবটি ও মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলাম। খেতসহ পুরো জমি নদীর পেটে চলে গেছে। সাঙ্গু নদী এক সময় আমার বাপদাদার রেখে যাওয়া ভিটা গিলে খেয়েছে। এবারে আবাদি জমি কেড়ে নিয়েছে। এখনো কিছু জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সাঙ্গু আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

পটিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড শাখা ১ এর পানি উন্নয়ন উপ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম জানান, সাঙ্গু নদীর বাজালিয়া চৌধুরী পাড়া, কালিয়াইশ ও চরতির বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু পয়েন্টে বেশ কিছু আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এসব ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চরতিতে একটি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমোহরা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিবহন বাসে বাধা, বিজিএমইএর উদ্বেগ
পরবর্তী নিবন্ধইরান খুব দুষ্ট, তেলের জন্য মার্কিনিদের একটু বেশি খরচ করতে বললেন ট্রাম্প