এইতো সেদিনের কথা। দেখতে দেখতে সময়ের সাথে সব কিছুই আমুল পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাংলার আপামর জনসাধারণের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। যে প্রতিষ্ঠান ছাড়া মানুষ বা দেশের কার্যক্রম ছিল একেবারেই অচল। প্রযুক্তির যুগে এসে সৃষ্টির কী অপার মহিমা। বলেছিলাম পোস্ট অফিসের কথা। বিশেষ করে চিঠিপত্র ও টাকা আদান প্রদান এই পোস্ট অফিসের মাধ্যমে হতো। তখনকার ৩টি বিষয়ের কথা আজকালকার সন্তানেরা হয়তো জানে না। ১. লেফাফা (খাম) ২. খোলা চিঠি কার্ড (ছোট্ট) ৩. টেলিগ্রাম। স্টিলের খাম্বার তারের মাধ্যমে পোস্ট অফিসের সাথে দেশ বিদেশে থেকে দ্রুত যোগাযোগ হতো। এক আশ্চর্যজনক পদ্ধতি ছিল। শৈশবে খাম্বায় কান লাগিয়ে শুনতাম যখন টেলিগ্রাম আসতো শব্দ হতো টক টক টাক টক টিক টিক এর মাধ্যমে কীভাবে যে সঠিক শব্দ প্রেরণ হতো ভেবে অবাক হয়ে যেতাম। তখনকার দিনে পোস্ট অফিসে খুবই জাঁকজমক ছিল। সেই সময় প্রখ্যাত গায়ক হেমন্ত মুখপাধ্যায় একটি গান গেয়েছিলেন এখনো খুবই জনপ্রিয়ের শীর্ষে। ‘রানার চলেছে পায়ে ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে’। লন্ঠন হাতে নিয়ে একগ্রাম থেকে অন্যগ্রামে চিঠিপত্র থলে কাঁধে করে পৌঁছে দিত খুবই দায়িত্বের সাথে। তখন দেশ ছিল অনুন্নত। গাড়ির প্রচলন ছিল খুবই কম। মাইলের পর মাইল মানুষ হেঁটে চলাচল করতো। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় সব কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আগের মত টাকা চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। কয়েক সেকেন্ডের মাঝে হাতের নাগালে। পোস্ট অফিসের চাকরি করে আমার এক বন্ধু দুঃখ করে বললো। ব্যাংকে চাকরিরত লোকেরা পোস্ট অফিসকে নিয়ে নানান বাজে মন্তব্য করে। অতীতের পোস্ট অফিসের গুরুত্ব যদি সে বুঝতো তাহলে অসম্মাজনক মন্তব্য সে কখন করতো না। প্রযুক্তির কারণে পোস্ট অফিস পিছিয়ে গেছে। তবে ঘুরে দাঁড়াবে এই বিশ্বাস আমার আছে। এখনো গ্রামে গঞ্জে লাল পোস্ট বক্সগুলো রাস্তার পাশে অসহায় অযত্নে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ চিঠি ফেলে না। কারো রং আছে, কারো বাক্সের ঢাকনা ভেঙে গেছে। অযত্নে পড়ে আছে। আমাদের খুবই খারাপ স্বভাব। ইতিহাসকে যত্ন করে রেখে দিতে চাই না। অতীতকে একেবারে মুছে দিতে পারলে আনন্দবোধ করি। সময়ের ব্যবধানে সবই পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু আমাদের নোংরা স্বভাবটা রয়েই গেল! অতীত ও ইতিহাস রক্ষার্থে সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।












