সমাবেশস্থল নিয়ে সমঝোতায় আসবে বিএনপি

সব জায়গায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে : কাদের

আজাদী ডেস্ক | বুধবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিএনপির সমাবেশস্থল নিয়ে যে টানাপড়েন চলছে, তা কেটে যাবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, হয়ে যাবে (সমাধান)। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে ঘন মেঘ ঘনীভূত হয়, আবার চট করে চলে যায়। আই অ্যাম অলওয়েজ অপটিমিস্টিক, আমি আশাবাদী।

গতকাল সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করার কর্মসূচি দিয়েছে। তারা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চাইলেও সেখানে পুলিশ অনুমতি দিতে চাচ্ছে না। পুলিশ সোহরাওআর্দী উদ্যানে জনসভা করতে বললেও বিএনপি তা মানছে না।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে, নাকি আরামবাগে পুলিশ অনুমতি দেবে? এমন প্রশ্নে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যেটাই হোক, একটা সমঝোতায় আসবে। এদিকে সমাবেশের নামে বিএনপি-জামায়াত যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আজ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব জায়গায় সতর্ক পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অগ্নি সন্ত্রাসীদের থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে। জানমাল নিরাপদ রাখতে হবে। এরা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, সামপ্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক। প্রস্তত হয়ে যান। আগামীকাল (আজ) থেকে পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় সব জায়গায় সতর্ক পাহারা বসাতে হবে। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজ ও বাসসের।

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে এমন উত্তেজনায় রাজধানীবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন দেশের অশান্তি চাইব? আতঙ্ক সৃষ্টি হয় কেন এমন কাজ করব? এখন যদি আতঙ্কের কোনো কাজ বা যদি কোনো উস্কানি দেওয়া হয়, আমাদের ওপর যদি ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমরা কী চুপ করে বসে থাকব? একই সঙ্গে বলেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তিনি প্রথম এসেছেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে এর মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় কিছু বিষয় আলোচনায় এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক যোগাযোগ নিয়ে আমাদের কিছু প্রকল্প আছে। সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারতীয় হাইকমিশনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।