আওলাদে রাসূল, পীর–এ–বাঙ্গাল হুযুর কিবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মু.জি.আ) বলেছেন, সমাজের চারদিকে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইমাম–খতিবগণকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায়
ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকাহ্ শরীফে আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত চট্টগ্রাম নগরীর মসজিদের ইমাম–খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন আওলাদে রাসূল, পীর–এ–বাঙ্গাল হুযুর কিবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মু.জি.আ)।
তিনি বলেন, আপনারা এলাকা ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি; কোরআন–হাদিসের দলিলের ভিত্তিতে আল্লাহর বান্দাগণকে হেদায়ত করার গুরু দায়িত্ব আপনাদের ওপর। আল্লাহর একত্ববাদ এবং রাসূলে পাক (দ.) এর মহব্বত, প্রিয় নবীর নূরানী আদর্শ, চরিত্র, শরীয়তের বিধি বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত মুসল্লিদের জানাতে হবে।
নির্দিষ্ট ওয়াজ নসিহতের ২/১ টি কিতাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আপনাদেরকে দৈনিক কমপক্ষে ১–২ ঘণ্টা কোরআন, হাদিস, তাফসির এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ পড়তে হবে। সেখান থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও মতাদর্শ ভিত্তিক দলিল প্রমাণাদি মুসল্লিদের সামনে তুলে ধরতে হবে। আপনারা যদি কোরআন হাদিসের অকাট্য প্রমাণাদি প্রদান করতে পারেন কোনো বাতিল ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিপন্থি কোনো গোষ্ঠী মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আলহামদুলিল্লাহ চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া প্রতিষ্ঠার পর হতে এ যাবৎ কোনো বাতিল চক্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ও জামেয়ার ওলামায়ে কেরামের সামনে দাঁড়াতে পারে নি। হুযুর কিবলা (মু.জি.আ) পবিত্র কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, আল্লাহ তা’আলা ঈমানদারদের বলেন– হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর হাবিবের উপর যথাযথ সম্মান ও ভক্তি সহকারে দরূদ ও সালাম পাঠ কর। এ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় হাবিবের উপর দরূদ–সালাম পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আমরা আহলে সুন্নাতের অনুসারীগণ বসা ও দাঁড়িয়ে উভয়াবস্থায় প্রিয় নবীর প্রতি আদব ও ভক্তি সহকারে দরূদ সালাম পাঠ করি। কোনো কোনো মহলের জ্বালা সৃষ্টি হয় আপনারা তাদেরকে বলুন– দাঁড়িয়ে প্রিয় নবীর প্রতি দরূদ সালাম পড়তে নিষেধ করা হয়েছে– এ রকম কোরআন হাদিসের দলিল থাকলে আমাদের দেখান। তাঁরা কোনোদিন দেখাতে পারে নি, পারবেও না।
হুযুর কিবলা উপস্থিত সকল ইমাম খতিবগণকে আপন আপন মসজিদে দাওয়াতে খায়র মজলিস আয়োজন করার অনুরোধ করেন এবং দাওয়াতে খায়র মজলিসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেক ইমাম ও খতিবগণের সাথে মুসল্লিদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাদের আমলসমূহ সংশোধন ও শুদ্ধভাবে আদায়ে খতিব ও ইমামগণকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা মসজিদে মুসল্লিদের নিয়ে তালিম তারবিয়াতের দরস দিবেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল, সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মু.জি.আ), বিশেষ অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ্ (মু.জি.আ)। আরও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি এস.এম গিয়াস উদ্দীন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, মাহমুদ নেওয়াজ, আনজুমান সদস্য ড. মুহাম্মদ সাইফুল আলম প্রমুখ।
দা’ওয়াতে খায়র দপ্তর সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, অধ্যক্ষ হাফেজ কাজী আব্দুল আলীম রিজভী, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান, এড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন আযহারী।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মসজিদের সাত শতাধিক ইমাম–খতিব এতে অংশগ্রহণ করেন। মিলাদ–ক্বিয়াম শেষে দেশ ও জাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মু.জি.আ)। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










