আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে ও টানা দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তিনি তাঁর বাবা আমাদের জাতির জনকের মতোই একজন মানবিক গুণসম্পন্ন, কোমল-কঠোর, সাহসী, বিচক্ষণ, মেধাবী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দেশপ্রেমিক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নেতা। আর চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা পরবর্তী বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, মায়ানমারের আগ্রাসী আচরণ ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পরিবর্তিত বিশ্ব ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে আমাদের তাঁর মতো এমনই একজন রাজনৈতিক নেতা প্রয়োজন, যিনি দেশ পরিচালনায় কুশলী অথচ স্বতঃস্ফূর্ত।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৫ পেরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। সৃজনশীল, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিমনস্ক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা যেন উদার মানবতাবাদী-দেশপ্রেমিক জাতির জনক ও বঙ্গমাতার এক বাস্তব প্রতিকৃতি। রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের মানবিক চরিত্র সম্পর্কে সাধারণের পারসেপশন বা মনের মধ্যে তৈরি হওয়া অবয়ব এক অদ্ভুত জিনিস। তাঁদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের যে ধারণা একবার তৈরি হয়ে যায়, তা অন্য কারও অতিক্রম করা সত্যিই কষ্টকর। ঠিক সে ভাবেই বাংলাদেশে একেবারে সাধারণ আমজনতার মাঝে তিনি তাঁর বাবার মতোই মানবিক গুণসম্পন্ন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন অবলীলায়। বাংলাদেশের রাজনীতির এক কঠিন সময়ে শেখ হাসিনার পদার্পণের পর বহু নেতা আমরা দেখেছি। তাঁদের অনেকেই বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞান-কর্মকুশলতায় হয়তো অনেক এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, তাঁরা কেউই শেখ হাসিনার মতো দ্যুতি ছড়াতে পারেননি, তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও গ্লানিমুক্ত জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্য অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। তিনি জাতির জনকের মতোই এত আলোকিত, সজীব ও প্রাণবন্ত যে সেই আলোতে বিশ্বে বাংলাদেশকেও অনেক উজ্জ্বল মনে হয়। সবসময় পাদপ্রদীপের আলো কেমন করে যেন শেখ হাসিনাকেই ছুঁয়ে থাকে, সে জন্যই তিনি অনন্য। তাই তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টাও কম হয়নি। কিন্তু সাধারণের দোয়া ও ভালোবাসায় যিনি সিক্ত তাঁকে রুধিবার সাধ্য কার! জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে দেশের সাধারণ নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য অর্জনে অবিচল।
শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছরে দেশ অনেক এগিয়েছে। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। মানুষের মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ু দুটোই বেড়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার কমেছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বেড়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া শিশুর হার কমেছে, স্বাক্ষরতা ও নারী শিক্ষার হার বেড়েছে এরকম আরও নানামুখী অর্জন আমাদের। আর এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে তাঁর সাহসী নানা পদক্ষেপের কারণে। শেখ হাসিনার চরিত্রের অন্যতম একটি দিক তাঁর আত্মবিশ্বাস। পদ্মা সেতুতো বটেই, সরকারের মন্ত্রীসভা গঠনের প্রাক্কালেও আমরা তাঁর প্রমাণ পাই। কিছুক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত নবীনদের নিয়ে তিনি যখন তাঁর মন্ত্রীসভা গঠন করেন তখন অনেকেই এতে বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি জানেন নবীন-প্রবীণের মিশেলে কিভাবে কাজ আদায় করে নিতে হয়। আমরা তাঁর কাজের দিকে মনোযোগী হলে দেখতে পাই, নবীনদের অনেক কাজেই তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই নিজের বিশাল ছায়া নবীনদের উপর ফেলতে দেন না। বরং তাঁদেরকে নিজের মতো করে এগোনোর পথ সুগম করে দেন। তবে, কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে তিনি রশি টানতেও পিছপা হন না।
দেশের সাধারণ মানুষ সত্যিকার অর্থেই তাঁকে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে। কারণ বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি সাধারণ মানুষের যে কোন বিপদে নিজেকে মেলে ধরতে জানেন। চেনা-অচেনা, শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে বহু মানুষকে তিনি প্রাণিত করেছেন তাঁদের নানা দুঃসময়ে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অতি সাধারণ। মেধা-মনন, কঠোর পরিশ্রম, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও বাবার মতোই দেশের জন্য ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব। পোষাকে, জীবন-যাত্রায় কোথাও তাঁর আড়ম্বর নেই। এই সহজ-সরল যাপিত জীবনের সবকিছুই পেয়েছেন তিনি তাঁর মহান পিতার কাছে থেকে। নিষ্ঠাবান ধার্মিক তিনি। তবে তিনি সামপ্রদায়িক নন বরং বিজ্ঞানমনস্ক অসামপ্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ আধুনিক অগ্রসর রাষ্ট্রনায়ক। তিনি আমাদের গর্ব, তিনি তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। শেখ হাসিনার চরিত্রের একটি বিশেষ দিক তাঁর বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। যে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনায় আমরা দেখি সকলেই তাঁর গুণমুগ্ধ শ্রোতা। মানুষের প্রতি তাঁর অসীম মমত্ববোধ, ভালোবাসা আর সর্বোপরি দেশের প্রতি তাঁর সীমাহীন ভালোবাসা তাঁকে আমাদের কাছে মহান করে তুলেছে। স্বাদেশিক চেতনায় শাণিত তিনি আমাদের অভয়ের প্রতীক। অনেক রাজনীতিবিদের রাজনীতির সংকীর্ণ স্বার্থপরতা, সুবিধাভোগী, অর্থ-বিত্ত-প্রভাব-ক্ষমতার কতিপয় মালিকের সীমাহীন ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে তাঁর মতো ক্ষমতার শীর্ষে থাকা মানুষের জনগনের প্রতি আদি-অকৃত্রিম সরল মানবিকতাই আমাদের এগিয়ে চলার প্রাণশক্তি।
শেখ হাসিনার এমনসব কর্মকাণ্ড ও চরিত্রের টুকরো ছবিগুলো এক সুতোয় বাঁধলে বুঝতে অসুবিধা হয় না, তিনি তাঁর এই সময়কালে অন্যদের চেয়ে কতটা আলাদা, স্বতন্ত্র।
আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিদিন হয়তো বিশেষ উপলক্ষ থাকে না, কিন্তু, যখন উপলক্ষ আসে তখন আমাদের উচিত তা উদযাপন করা। বাংলাদেশকে বিগত কয়েক বছরে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল কাণ্ডারি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আমাদের কাছে তেমনই একটি বিশাল উপলক্ষ। জন্মদিনের এই ক্ষণে তাঁর প্রতি আমাদের উজাড় করা ভালোবাসা। আপনার সাথে সামনাসামনি কখনো দেখা হোক বা না হোক আপনি আমাদের মনের কুঠিরে রইবেন জীবনভর। রাজনীতির বন্ধুরপথের এই অক্লান্ত যাত্রীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেমন শ্রদ্ধার, তেমনি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসারও। আমাদের চাওয়া, তাঁর জন্মদিন বাংলাদেশের শুভদিনে পরিণত হোক, সেই সাথে দেশ-সমাজ ও আপামর জনসাধারণ নিয়ে তাঁর আশাবাদী স্বপ্ন ও কর্মগুলো সফল হোক।
লেখক : বিতার্কিক ও কলাম লেখক












