শি জিনপিং-কে বন্ধু বললেন ট্রাম্প,সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ

তাইওয়ান নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন শি

| শুক্রবার , ১৫ মে, ২০২৬ at ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘আমার বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। জিনপিংয়ের বন্ধু হতে পেরে সম্মানিত বলে জানান ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টকে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। নৈশভোজের উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই বিদ্যমান। শুরুর দিকে যেসব মার্কিন ব্যবসায়ী চীনে যেতেন, চীনারা তাদের নতুন মানুষ হিসেবে অভিহিত করত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেইজিংওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ককে বিশ্বের অন্যতম ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী’ সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউজ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্প একটি সুনির্দিষ্ট তারিখও উল্লেখ করেছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে পরবর্তী সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এ সফরে চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকেও সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ট্রাম্প। নৈশভোজে ট্রাম্পের আগে বক্তব্য দেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ উভয়ই মহান। চীনের মহান জাতির পুনর্জাগরণ এবং ‘মেকিং আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান করা) লক্ষ্য দুটি হাত ধরাধরি করে চলতে পারে। শি আরও বলেন, দুই দেশ একে অপরকে সফল হতে সাহায্য করতে পারে এবং গোটা বিশ্বের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক : চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এবং ট্রাম্প দুই জাতির প্রত্যাশা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তিনি বলেন, আমরা একাধিক বৈঠক ও ফোনালাপ করেছি এবং দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রেখেছি। আমরা দুজনেই বিশ্বাস করি যে, চীনমার্কিন সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। আমাদের অবশ্যই একে সফল করতে হবে এবং কখনওই একে নষ্ট করা যাবে না। দু’দেশ যাতে একে অন্যকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভাবে, ট্রাম্পের উদ্দেশে সেই বার্তাই দিয়েছেন জিনপিং। তিনি চান, দুই দেশ একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করুক।

ফেন্টানিল, হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা : হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ও শির মধ্যে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। সেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের বাজার উন্মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম কিছু কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফেন্টানিল’ নামক মাদক তৈরির রাসায়নিকের প্রবাহ বন্ধ করার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা।

ইরান ও জ্বালানি নিরাপত্তা : ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় খুব একটা আলোকপাত না করলেও হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় দেশ একমত হয়েছে যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে পারে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই পক্ষই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট শি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পকে চীনে স্বাগত জানিয়ে তাইওয়ান নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন শি : দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওয়াশিংটনবেইজিং বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে মতবিরোধ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে নিয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়ে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে এই শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে; মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাকে ‘সম্ভবত সর্বকালের সর্ববৃহৎ সম্মেলন’ হিসেবে দেখতে চাইছেন।

শি বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বেইজিং। চীন এ দ্বীপটিকে তার নিজের অংশ মনে করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় চলা তাইপেকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ভাষ্যে বলা হয়েছে, তাইওয়ানই যে চীনযুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ বিষয়ে ‘যে কোনো ভুল পদক্ষেপ’ যে দুই দেশকে সংঘাত এবং খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে শি তা ট্রাম্পকে বলেছেন। দুই নেতার মধ্যে বৃহস্পতিবারের বৈঠক দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তাইওয়ানে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাব ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবারও চীন এ অস্ত্র বিক্রির কড়া নিন্দা জানিয়েছে। স্বশাসিত দ্বীপটিকে আলাদা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও তাদের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে ওয়াশিংটন নিজেদের আইনেই বাধ্য। পরে টেম্পল অব হেভেনে শির সঙ্গে ছবি তোলার পোজ দেওয়ার সময় এক সাংবাদিক বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলেও ট্রাম্প কোনো উত্তর দেননি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২৩ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধরাবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক জয়নুল আবেদিন