টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নারিচ্ছাবিটা এলাকায় শিলক খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি ধসে পড়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাজারো সাধারণ মানুষ, স্কুল–মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবীরা যাতায়াত করেন। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সেতুর মধ্যবর্তী অংশ ও সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং স্থানীয়দের বাজারে কৃষিপণ্য আনা–নেওয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাসান বলেন, সেতুটি ধসে যাওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ। যেকোনো মুহূর্তে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আমরা লিখিত আবেদন জানিয়েছি।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে নারিচ্ছাবিটা এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। খালের তীব্র স্রোতে অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, যার ফলে নষ্ট হয়েছে কৃষকদের মৌসুমি ফসল।
এছাড়া খালের ভাঙনে কয়েকটি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঢল নেমে যাওয়ার পর গ্রামীণ সড়কগুলো কাদামাটিতে ঢেকে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ সংকট ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং শিলক খালের ওপর একটি টেকসই স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।











