বিশ্বকাপের চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটি আগামীকাল ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা মিশরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে এবং সুইজারল্যান্ড কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।
এবারের টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি এরই মধ্যে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট রেসের শীর্ষস্থান দখল করেছেন। আলবিসেলেস্তেরা এখন পর্যন্ত নিজেদের খেলা পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছে এবং তাদের আক্রমণভাগ খুবই শক্তিশালী। তবে শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। অন্যদিকে, এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম সেরা রক্ষণভাগ নিয়ে খেলছে সুইসরা। গোলরক্ষক গ্রেগোর কোবেলের অসাধারণ ফর্ম ও সুশৃঙ্খল রক্ষণশৈলীর কারণে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা বল পজিশন ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইবে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার–অ্যাটাকে খেলার কৌশল অবলম্বন করতে পারে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে ২ ও ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। এ সত্ত্বেও ম্যাচটি নিয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি নেই। কারণ নকআউট ফুটবলে অতীতের পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না। দুই দলের পূর্ববর্তী সাক্ষাৎগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত মোট সাতবার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার জয় হয়েছে ৫ ম্যাচে। সুইজারল্যান্ডের পক্ষে কোন জয় আসেনি। ২ ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেবার নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে আনহেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, ২০১৪ সালের সেই স্মরণীয় লড়াইয়ের তিনজন ফুটবলার এখনও দুই দলে খেলছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি এবং সুইজারল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ আবারও একে অপরের মুখোমুখি হবেন। ২০২২ বিশ্বকাপ ও পরবর্তী কোপা আমেরিকার সাফল্যের পর লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা নিজেদের অন্যতম পরিপূর্ণ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, হুলিয়ান আলভারেজের গতি এবং মধ্যমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেঙিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সৃজনশীলতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের উপস্থিতি নকআউট ম্যাচে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।
অন্যদিকে ইউরোপের এই দলটি বহুবার বড় দলগুলোর জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ‘জায়ান্ট কিলার’ পরিচিতি পাওয়া সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং সেট–পিস থেকে গোল করার দক্ষতা। শারীরিক সক্ষমতা ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার কারণে ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম। সামপ্রতিক পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে; তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচে রয়েছে চার জয় ও একটি ড্র। তবে সাধারণ ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ আর্জেন্টিনাকেই পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মেসিদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে সুইসদের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। কোচ মুরাত ইয়াকিনের যদিও আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট হিসেবে স্বীকার করেছেন, তবে তাদের অপরাজেয় মনে করছেন না। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কি আরেক ধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে, নাকি দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখবে সুইজারল্যান্ড।










