সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে শাপলা চত্বরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল–২ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা লতিফ সিদ্দিকীকে এদিন দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষে কোনো জামিনের আবেদন না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
আদালতের আদেশ শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে বের করা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে গত ২৭ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ মামলার আসামির তালিকায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে ১০ নম্বরে। খবর বিডিনিউজের।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে কথা বলার অনুমতি না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন। আমার মৃত্যুতে সহায়তা করুন। এই আদালত পক্ষপাতদুষ্ট। শুনানি চলাকালে এজলাসের কাচঘেরা ডকে থাকা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আককর্ষণ করার চেষ্টা করেন। অন্তত চারবার তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মাননীয় আদালত আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘উনি কে, তাকে কে অ্যালাও করেছে? আসক হিম টু স্টপ।’ তখন লতিফ সিদ্দিকীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাব!’
এরপর ট্রাইব্যুনাল উঠে গেলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য ডকে দাঁড়িয়ে থাকা লতিফ সিদ্দিকীকে বসতে বলেন। তখন ওই পুলিশ সদস্যকে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি বসে থাকব না দাঁড়িয়ে থাকব, সেটা আমার ব্যাপার। তখন ওই পুলিশ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীকে ধাক্কা দিয়ে ডকের ভেতরের দিকে ঠেলে দেন। লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবীরা তখন ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করেন। এ পর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর ডক থেকে নামিয়ে নেওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
এ ব্যাপারে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোর্টের পারমিশন চেয়েছিলাম, উনি কোর্টকে অ্যাড্রেস করে কিছু কথা বলতে চান। কোর্ট উনাকে সেই পারমিশনটা অ্যালাউ করেনি। কোর্ট বলেছে যে নেঙট ডেটে যখন আসবে তখন পারমিশন দেবে, তখন কথা বলতে পারবে।












