অবক্ষয়গ্রস্ত যুব–তরুণদের বিপথগামিতা রুখতে পরিকল্পনা গ্রহণ, ১ মহররম হিজরি নববর্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থামানো, শিক্ষার্থীদের মাঝে আদর্শিক মানদণ্ড তৈরির লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক শিক্ষা চালু এবং ইসলামের মূলধারার আলোকে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটিয়ে শান্তি–সাম্যের স্বদেশ ও মানবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে হিজরি নববর্ষকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার লালদীঘি ময়দানে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ১৭তম হিজরি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বড় দেশগুলোর শাসকদের মোড়লিপনা, ঔদ্ধত্য ও নিষ্ঠুরতায় সমগ্র বিশ্বে আজ অশান্তি ও সংঘাতের দাবানল জ্বলছে। ইসলামের মূলধারাকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক জাগরণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটিয়ে দেশ ও বিশ্বজুড়ে শান্তির বাতাবরণ গড়ার আহ্বান জানান। হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ’র সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী। হাম্্দ, না’তে রাসূল (দ.), গজল, কাওয়ালি, মরমী, মাইজভাণ্ডারী, দেশাত্মবোধকসহ নানা উজ্জীবনধর্মী গান ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে হিজরি নতুন বছরকে বরণ করে নেন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের শায়ের ও খুদে শিল্পীরা। গজল, গান ও সঙ্গীত পরিবেশনের ফাঁকে চলে কথামালা ও আলোচনা সভা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন। উদ্বোধক ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত’র অধ্যক্ষ আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আলকাদেরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন, আঞ্জুমান এডুকেশন ম্যানেজম্যান্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত’র চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুঈন উদ্দিন আশরাফী, অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, অধ্যক্ষ স উ ম আব্দুস সামাদ, মাওলানা শাহ্্ নূর মোহাম্মদ আল কাদেরী, সাংবাদিক সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, সমাজসেবক মুহাম্মদ আলী হোসেন আরিফ, মাওলানা ইউনুস তৈয়বী যুক্তিবাদী।
ওসমান গণি কাদেরীর সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন, এম নাছির উদ্দীন মাহমুদ, আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী, অধ্যাপক মীর আবদুর রহিম মুনিরী, মুহাম্মদ আলী হোসেন, মাওলানা শেখ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল মনছুর দৌলতী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, এম মহিউল আলম চৌধুরী, মাওলানা মুহাম্মদ করিম উদ্দিন নূরী, ডা. মুহাম্মদ সরওয়ার, মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট জি এম শাহাদত হোসোইন মানিক, আজিম উদ্দিন আহমেদ জনি, মুহাম্মদ আমানউল্লাহ, আবদুল করিম সেলিম, আমান উল্লাহ আমান, বেলাল হোসেন, আলমগীর ইসলাম বঈদী, সৈয়দ মুহাম্মদ সালাউদ্দিন খোকন, সুলতান মাহমুদ সুমন, ইকবাল হোসাইন কাদেরী, ইমরান হোসেন তুষার, আজাদ হোসেন, এনামুল হক কাদেরী, আবদুল্লাহ আল মাসুম, নুর রায়হান চৌধুরী, বশির আহমদ চৌধুরী, মিনহাজ উদ্দীন, এস এম মেজবাহ, আবরার উল্লাহ, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, আরিফুল ইসলাম রুবেল, আমির হোসেন, ফারুক হোসাইন, আজিজুল ইসলাম, শাকের উল্লাহ, হাবিব রেজা, মাঈনুল ইসলাম সায়েদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মতিন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। চট্টগ্রাম সকল ক্ষেত্রে দেশবাসীকে পথ দেখিয়েছে। ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে হিজরি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান চট্টগ্রামকে সত্যিই মহিমান্বিত করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যুব তরুণরা বিপথগামী। তারা পথভ্রান্ত। তাদের মাঝে আশার আলো জাগাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আশরফ শাহ বলেন, বিজাতীয় অপসংস্কৃতি বর্জন করে সুস্থ ধারার দেশীয় কৃষ্টি– সংস্কৃতি চর্চা আরো বাড়াতে হবে। মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












