শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী : কীর্তিমান দেশব্রতী

সোমবার , ২৭ নভেম্বর, ২০১৭ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
239

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি যেসব মনীষীর অবদানে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম মুনীর চৌধুরী। মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বন্দী অবস্থায় একুশের পটভূমি নিয়ে লিখেছিলেন বিখ্যাত নাটক ‘কবর’। আজ বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবীর ৯২তম জন্মবার্ষিকী।

মুনীর চৌধুরীর জন্ম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার মানিকগঞ্জে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্র ও পেশাগত জীবন থেকেই মুনীর প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির চর্চা করতেন, ছিলেন বামপন্থী চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ। ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘ ও শিল্পী সংঘের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৪৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশি আগ্রাসন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সভায় তীব্র জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন মুনীর চৌধুরী। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সে বছরই কারাগারে বন্দী অবস্থায় রচিত বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দীদের দ্বারা অভিনীত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। তাই ইংরেজিতে এম.এ করার পরও নিরাপত্তা বন্দী হিসেবে জেলখানায় পরীক্ষা দিয়ে বাংলায় এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। মুনীর চৌধুরীর সাহিত্য চর্চা মুখ্যত মৌলিক নাটক রচনা ও নাটক অনুবাদের মাধ্যমে। বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। সমালোচনা সাহিত্যেও তাঁর অবদান অসামান্য। ‘মীর মানস’, ‘বাংলা গদ্যরীতি’ ইত্যাদি তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রথম জীবনে লেখা মুনীরের ছোটগল্পগুলো সংগৃহীত হয় নি। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহের মধ্যে রয়েছে নাটক: ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘চিঠি’, ‘শবর’, ‘দণ্ডকারণ্য’, ‘পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য’; অনূদিত নাটক: ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’, ‘রূপার কৌটা’, ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ ইত্যাদি। মুনীর অপটিমা নামে পরিচিত বাংলা টাইপ রাইটারের কি বোর্ডের উদ্ভাবন করেন মুনীর চৌধুরী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার থেকে পাওয়া ‘সেতারাইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করেন। অসাধারণ বাগ্মী, বিশিষ্ট শিক্ষক এবং প্রগতিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে খ্যাতিমান মুনীর চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের দু’দিন আগে পাকবাহিনীর দোসর এদেশীয় সহযোগী আলবদর বাহিনির দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

x