লোহাগাড়া থেকে অপহরণের পর স্বরূপ কান্তি দাশ (৫০) নামে এক স্কুল শিক্ষককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার সন্ধ্যায় সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট গোল চত্বর এলাকা তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের ঘটনায় জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপহৃত স্বরূপ কান্তি দাশ লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিন্দু পাড়ার মৃত পরিমল কান্তি দাশের পুত্র। তিনি পদুয়া ওয়ার্ড বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পদুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী মুন্সি পাড়ার মৃত সুলতান আহমদের পুত্র মো. রফিক উদ্দিন (৫৩) ও আলী সিকদার পাড়ার মৃত শাহজাহানের পুত্র নেজাম উদ্দিন (৪৮)।
পুলিশ জানায়, স্বরূপ কান্তি দাশ পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় বসবাস করেন। সেখান থেকে প্রতিদিন কর্মস্থলে আসা–যাওয়া করেন। ঘটনারদিন সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। সকাল ৯টার দিকে পদুয়া বাজারে পৌঁছলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে তাকে টেক্সিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে অপহরণকারীরা শিক্ষক স্বরূপের মোবাইল থেকে তার স্ত্রী জেলী চৌধুরীকে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানায়। স্বামীকে জীবিত ফেরত পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিকেল ৩টার মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফা ফোন করে অপহরণকারীরা স্বরূপ কান্তি দাশকে মারধর করে তার কান্নার শব্দ স্ত্রীকে শোনায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরিবার মুক্তিপণের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা নিয়ে স্ত্রীকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বরে যেতে বলা হয়। এ ঘটনার ব্যাপারে স্বরূপ কান্তি দাশের স্ত্রী লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত শিক্ষকের অবস্থান শনাক্ত করে কেরানীহাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে দুইজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ছুরি, একটি গামছা, পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক ও ৩টি কার্টিজ পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে পুলিশ জানিয়েছেন, তারা আগে স্বরূপ কান্তি দাশের গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়ায় একটি টেঙি নিয়ে তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন।
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে লোহাগাড়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










