লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ৩০ আগস্ট

নৌপরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে এপিএম টার্মিনালস প্রতিনিধি দলের বৈঠক

হাসান আকবর | শুক্রবার , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী ৩০ আগস্ট। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সহযোগিতায় নির্মাণ হতে যাওয়া এই টার্মিনালকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টার্মিনাল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, লালদিয়া টার্মিনালে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। টার্মিনালের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে অফিস থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। এর ফলে বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তাও আরও নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটিকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে টার্মিনালের কর্মসংস্থানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দর খাতে নারী কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যে গতি আসার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্যবসাবাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈঠকে ডেনমার্কের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে মন্ত্রী বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়নে দেশটির সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আরও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। বিশেষ করে বন্দর ও নৌপরিবহন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশে বন্দর ও টার্মিনাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালসহ দেশের বন্দর খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি, দূরনিয়ন্ত্রিত ক্রেন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে টার্মিনালটি পরিচালিত হলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)সহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নময় দিন
পরবর্তী নিবন্ধ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিন ধাপে আবেদন গ্রহণের প্রস্তাব, ক্লাস নভেম্বরে