চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাইকার অর্থায়নে দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–৩ এর কাজ শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অর্থায়নে সম্মতি জানিয়ে ওয়াসার সাথে বৈঠক করেছে জাইকা প্রতিনিধি দল। তারা প্রকল্প এলাকাও পরিদর্শন করেছেন। এরমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে তারা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজও শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
গতকাল তিনি আজাদীকে জানান, রাঙ্গুনিয়ার গোডাউনস্থ সরফভাটা এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–২ এর পাশে হবে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–৩। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। এই প্রকল্পের বড় সুবিধা হচ্ছে নতুন করে কোনো পাইপ লাইন স্থাপন করতে হচ্ছে না। বিদ্যমান কর্ণফুলী দ্বিতীয় প্রকল্পের পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের পানি শহরে চলে আসবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, এর আগে ২০১৬ সালে জাইকা রাঙ্গুনিয়ার গোডাউনস্থ সরফভাটা এলাকায় দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লিটার পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–২ এ অর্থায়ন করেছিল। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছিল ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছিল।
২০২১ সালের ১৬ মার্চ থেকে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে এই প্রকল্পের পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর পাইপ লাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদে রিজার্ভার এবং হালিশহরে এলিভেটেড ট্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর এক বছর পর ২০২২ সালের ১৬ মার্চ এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রাঙ্গুনিয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি প্রকল্প রয়েছে। একটি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–১ এবং দ্বিতীয়টি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–২।
কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–১ প্রকল্পটির পানি উৎপাদন হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে। আর কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–২ এর পানি উত্তোলন হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউনস্থ সরফভাটা এলাকা থেকে। আর কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প–৩ এর পানিও উত্তোলন হবে সরফভাটা কর্ণফুলী নদী থেকে।











