রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায়ও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করেছে সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
গত শনিবার দিবাগত রাতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঘোষিত কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে রোববার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলের একাংশ। গতকাল দুপুরে নতুন কমিটির আনন্দ মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয় দুই অংশই। বিকালে শুরু হয় দুই পক্ষের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া। এ সময় এক যুবদল কর্মী আহত হন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহত মো. ইউসুফ পৌর যুবদলের সদস্য।
বিকেলে ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করতে শহরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থান নেয় এবং পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় আনন্দ মিছিলে যোগ দিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসলে পদবঞ্চিতরা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে দিকে অগ্রসর হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা হয়। এ সময় একজন কর্মীকে আহত হয়ে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে। পরে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি পৌরসভা, কাঠালতলী এলাকা ও বনরূপার আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনের সই করা এক আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সড়কে চলাচলকারী ব্যক্তি ও যানবাহন এ আদেশের আওতাভুক্ত থাকবে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটির নেতারা। এসময় জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা অনেকেই আংশিক কমিটির কারণে কমিটিতে স্থান পাননি। আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সবাইকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করব। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, প্রতিযোগিতা ছিল। আজকে থেকে প্রতিযোগিতাও নেই। আমরা সবাই এক সঙ্গে কাজ করব।
রাঙামাটির কোতোয়ালী থানায় ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে পৌরসভা, কাঠালতলী ও বনরূপা আশেপাশে এলাকায়। কোনো প্রকার মিছিল, মিটিং ও জনসভা করা যাবে না। আমাদের পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।














