যুদ্ধের চাপে নাজেহাল ইরানের অর্থনীতি

আকাশছোঁয়া দাম, ছাঁটাইয়ের খড়গ

| সোমবার , ৪ মে, ২০২৬ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

হু হু করে বাড়ছে দাম, কোটি মানুষ হয় চাকরি হারিয়েছেন, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে আপাতত বন্ধ, এসবই ইরানের অর্থনীতির বেহাল দশাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। খাদ্য ও ওষুধ, গাড়ি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যসহ প্রায় সবকিছুই ইরানিরা এ সপ্তাহের শুরুর দিন শনিবার যে দামে কিনেছে, গত সপ্তাহেও দাম তার চেয়ে খানিকটা কম ছিল। খবর বিডিনিউজের।

স্থানীয় অব্যবস্থাপনা, ইরানি স্থাপনাগুলোতে টানা বোমাবর্ষণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌঅবরোধের পাশাপাশি ৬৪ দিন ধরে তেহরানের কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করে রাখায় ৯ কোটির বেশি মানুষের দেশটির অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে। দেশটির মুদ্রা রিয়াল দেখেছে রেকর্ড দরপতন। তেহরানে খোলা বাজারে এখন প্রতি ডলারের বিপরীতে মিলছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল। বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশটিতে মুদ্রা কেনাবেচা কার্যত বন্ধই আছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

একই অবস্থা অন্য সব পণ্যের ক্ষেত্রেও। পরিস্থিতি আর কতটা খারাপ হতে পারে, নতুন পণ্য আসবে কিনা এ অনিশ্চয়তায় ক্রেতাবিক্রেতারাও কী যে করা উচিত তা বুঝে উঠতে পারছেন না। সরবরাহ কমায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বিক্রেতাই এখন পণ্যের দাম বেশ দ্রুত বাড়াচ্ছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা অন্যতম দেশ ইরানেও এমন চিত্র বিরল। অ্যাপলের ২৫৬ গিগাবাইটের আইফোন ১৭ প্রোম্যাক্সের দাম যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে এক হাজার ২০০ ডলার, তেহরানের কোনো কোনো দোকানে তা কিনতে এখন প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল (২ হাজার ৭৫০ ডলার) লাগছে। অনেকে তো বিক্রিই করতে রাজি হচ্ছেন না। সাধারণ ফরাসী গাড়ি পুজো ২০৬যা এখন ইরানে তৈরি হয়, বেশ জনপ্রিয়ম কিনতে গেলে চোখ কপালে উঠে যাবে। সস্তার এ গাড়ি কিনতেই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এখন গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার কোটি রিয়াল (১৬ হাজার ৫০০ ডলার)। আমদানি করা গাড়ির খোঁজ পাওয়া তো আরও কঠিন। যদিও বা মেলে, দাম শুনলে হবে মূর্ছা যাওয়ার যোগাড়। সেই একই গাড়ি এখন প্রতিবেশী আরব আমিরাতের বাজারে মিলবে ইরানের দামের ২০ শতাংশে।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গাড়ির বাজারে প্রতিদিন দাম বাড়ছে বলে স্বীকার করলেও এর জন্য মূল্যস্ফীতি সংশ্লিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক কারণ এবং অস্থির বাজারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশি লাভপ্রত্যাশী লোভী বিক্রেতাদের ভুয়া দাম’কে দায়ী করেছে। ২১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন পারস্য বছরে সরকার মজুরি প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরও ইরানে এখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭ কোটি রিয়ালের (৯২ ডলার) কম।

সরকার খাবার ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে জনপ্রতি প্রতিমাসে যে ভর্তুকি দিচ্ছে তাও ১০ ডলারের কম। আপনি জিনিসপত্রের দাম ও বেতনের দিকে তাকান, দেখবেন হিসাব মিলছে না। এই অবস্থায় আপনি তেমন কিছুই করতে পারবেন না। সামান্য যা আছে তা দিয়ে এমন কিছু কিনতে পারেন, যার দাম কমবে না। কিংবা দরকারি সে জিনিসটি এখনই কিনে ফেলতে পারেন, পরে যা কেনা সম্ভব নাও হতে পারে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটাই বলেছেন তেহরানের এক বাসিন্দা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ৪১.৩৫ কোটি টাকা
পরবর্তী নিবন্ধদিল্লির আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু