আমদানিকৃত গার্মেন্টস পণ্যের চালান থেকে ৩৭ রোল কাপড় চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া কাপড়ের ছয় রোল।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের আদমজি ইপিজেডের সিমবা ফ্যাশন লিমিটেড চীন থেকে ১,১৫২ রোল গার্মেন্টস পণ্য আমদানি করে। গত ১৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিওয়াই ইয়ার্ড থেকে ২০০ রোল কাপড় একটি কাভার্ডভ্যানে (নম্বর ঢাকা–মেট্রো–ট–২০–৫২৭৮) তুলে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক মো. বেলাল।
গাড়িতে ডিজেল লোড করার জন্য তিনি নিমতলা সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফুয়েল পাম্পে তেলের জন্য সিরিয়াল দেন। ওখানে গাড়িটি রেখে মো. বেলাল পালিয়ে যান। পরবর্তীতে নতুন চালকের মাধ্যমে গাড়িটি ১৮ এপ্রিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে ২২ এপ্রিল পণ্য খালাসের সময় ৩৭ রোল কাপড় কম পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কাপড় বোঝাই করে মো. বেলাল নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পথে বন্দর থানাধীন ইস্ট কলোনি এলাকায় তার সহযোগী ফারুক ও আনোয়ারের সহায়তায় গাড়ির সিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির লাগানো সিল ও তালা ভেঙে ৩৭ রোল কাপড় নামিয়ে নেন। পরে একই ধরনের আরেকটি সিল ও তালা লাগিয়ে গাড়িটি নিমতলা সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফুয়েল পাম্পের সামনে রেখে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হলে সিএমপি বন্দর বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নিমতলা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত চালক মো. বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পৃথক অভিযানে ফারুক, আনোয়ার, নাসির ও জসিমকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরি হওয়া কাপড় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। এ সময় নাসিরের কাছ থেকে ছয় রোল খাকি রঙের কাপড় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া কাপড়ের একটি অংশ টেরীবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।













