মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ধর্ষণ করে খুন

মহেশখালীতে শিশু মাহিয়া হত্যা গ্রেপ্তার যুবকের স্বীকারোক্তি

মহেশখালী প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

মহেশখালীতে ৭ বছরের স্কুলছাত্রী মাহিয়াকে খুনের অভিযোগে সোলায়মান (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে মহেশখালী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাতারবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সোলায়মান টেকনাফ উপজেলার চাকমারকুল গ্রামের সৈয়দ করিমের পুত্র। তিনি এর আগে এক নারীকে খুন করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মাহিয়া হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার সোলায়মানের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী জানান, ৩০ নভেম্বর মাতারবাড়ি সাইরার ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর ছাত্রী মাহিয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর নিখোঁজ হয়। তার পিতা আয়াত উল্লাহ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ১ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক মোবাইল থেকে শিশুটির পিতার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার বিষয়টি তিনি থানাকে অবহিত করেন। অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলাও করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীকে খোঁজা হচ্ছিল।

গত শনিবার বিকালে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ার দিয়া চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে মাহিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই সোলায়মানকে শনাক্ত করে মাতারবাড়িতে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে সোলায়মান জানান, তিনি মাতারবাড়ি থেকে বিয়ে করে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি নেন। ১৯ নভেম্বর ৫শ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাহিয়ার বাবা আয়াত উল্লাহর কাছ থেকে বাসা ভাড়া নেন। বাসাটি ছোট হওয়ায় সেখানে সস্ত্রীক তিন-চার দিন থাকার পর আয়াত উল্লাহর ভাইয়ের ভাড়া বাসায় চলে যান। এ সময় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। অল্প টাকার চাকরি ভালো না লাগায় কীভাবে হঠাৎ বড় লোক হওয়া যায় ভাবছিলেন। পরে আয়াত উল্লাহর শিশুকন্যা মাহিয়াকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির সিদ্ধান্ত নেন। স্কুল থেকে ফেরার পর মাহিয়াকে বাসার সামনে খেলছিল।

তাকে ডেকে নিয়ে জুস ও কেক খেতে দিয়ে তার বাসায় নিয়ে যান। এ সময় স্ত্রী বাসায় না থাকায় তিনি মাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) করেন। এতে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে বড় ব্যাগে ঢুকিয়ে টমটমে করে মাতারবাড়ির মগডেইল বাজারে নিয়ে যান। এ সময় শিশুটি ব্যাগের ভিতর একটু একটু নড়ছিল। সেখান থেকে আবার দক্ষিণ রাজঘাটে নিয়ে যান। দশ টাকা দিয়ে ছোট নৌকায় খাল পার হয়ে উজানটিয়ার চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকায় যান। ততক্ষণে মাহিয়া মারা গেছে। ব্যাগের চেইন খুলে শিশুর লাশটি খড়কুটো দিয়ে ঢেকে অর্ধেক পুঁতে নিশানা দিয়ে চলে আসেন।

জবানবন্দিতে আরো জানান, টেকনাফে আসমা নামের এক মহিলাকে তিনি ভালোবাসতেন। ওই মহিলা আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক করায় তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। ওই হত্যা মামলায় তিনি পলাতক আসামি থাকা অবস্থায় মাতারবাড়িতে চলে আসেন।