মীরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পপিকে এবং তাদের ১০ মাসের মেয়ে ফাতিহাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের রিল্যাক্স জোন আবাসিক হোটেল থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আমিনুল উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ লাইনে সহকারী উপ–পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সরেজমিনে হাজীশ্বরাই গ্রামে স্ত্রী তাহমিনার বাড়িতে গিয়ে তার চাচি জাহানারা বেগম থেকে জানা যায়, আমিনুলের স্ত্রী সন্তান নিয়মিত সেই বাড়িতেই থাকতো। আমিনুল শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী তাহমিনাকে রবিবার সকালে সন্তানের জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাজ আছে বলে শাশুড়িকেসহ বড়তাকিয়া নিয়ে এসে। শাশুড়ি আমেনা বেগমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং এখানে কাজগুলো সেরে হোটেলে উঠবেন বলেন। পরদিন মেয়েকে নিয়ে যেতেও বলেন।
হোটেল রিল্যাক্সে উঠেছে তা মেয়ে মাকে জানিয়ে রেখেছিল। তাহমিনার মা আমেনা ও বাবা ইব্রাহিম হোসেন পরদিন সকাল ৭টায় চলে যায় সেই হোটেলে। কিন্তু হোটেলের লোকজন ১০টার আগে কাউকে ভেতরে যেতে দেয়নি। অবশেষে ১০টার পর মা রুমের সামনে গিয়ে অনেক ডাকা–ডাকির পরও মেয়ে জামাই কেউ উঠছে না দেখে কান্নাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে মেয়ে উঠে কোনভাবে দরজা খুললে দেখে জামাইর মৃতদেহ ঝুলে আছে আর মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায়। কোনভাবে উঠে দরজাটা খুলেছে মাত্র। ঘটনা দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ও আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠায়।
চাচি আরও বলেন, আমাদের মেয়েকে জামাই অনেক চেয়েছে তার কর্মস্থল রাঙামাটি নিয়ে যেতে। সে রাজি হয়নি। আবার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পছন্দ করে না তাই সে সেখানেও যেতে চাইছে না। এসব নিয়েই ঝগড়া হতো ওদের। এবার জামাই তাকে রাঙামাটি নিয়ে যাবার জন্যই চাপ দিয়েছিল বলে আমরা জানি।
নিহত আমিনুরের বড়ভাই আবুল হাসান ও বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য ওর স্ত্রীই দায়ী। তার মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। তাহমিনাকে চিকিৎসা প্রদান করা মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙর জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডা. মুনমুন বলেন, তাহমিনার গলায়, চোয়ালে কাটা দাগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থাও ঝুকিপূর্ণ। তাই আমরা তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম হোটেল রিল্যাঙ জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর লাশ উদ্ধার করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মীরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এমন ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। পুরো ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।












