চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ওয়ার্ডে ওয়াসার আবাসিক এবং বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে ৮৬ হাজার ৩০৯টি। এর মধ্যে আবাসিক সংযোগ ৭৮ হাজার ৫৪২টি এবং বাণিজ্যিক ৭ হাজার ৭৬৭টি। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের মিটার রিডিং দেখা ও বিল পৌঁছানোর জন্য মিটার রিডার আছেন মাত্র ৩৭ জন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ওয়াসার আবাসিক এবং বাণিজ্যিক যে পরিমান সংযোগ রয়েছে (প্রায় সাড়ে ৮৬ হাজার) তার জন্য অন্তত ৯০ জন লোকবল (মিটার রিডার) প্রয়োজন। কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসায় বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৭ জন। আরও ৫৩ জন লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। এতো কম সংখ্যক জনবলের কারণে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের মিটার রিডিং দেখা ও বিল পৌঁছানোর সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং দেখে বিল করতে না পারায় অপচয় বা সিস্টেম লস কমছে না। চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতি অর্থ বছরে যে পরিমান পানি উৎপাদন করে তার ২৬ থেকে ২৫ শতাংশ পানি অপচায় বা সিস্টেম লস হিসেবে চলে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের আয়–ব্যয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম ওয়াসায় মোট পানি উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ১৯৬ কোটি লিটার। কাগজ অনুসারে এই পুরো পরিমাণ পানিই ‘সরবরাহ’ করা হয়েছে। তবে বিক্রির তালিকায় দেখা যাচ্ছে মাত্র ১২ হাজার ৭১৫ কোটি লিটার। অর্থাৎ উৎপাদিত পানির ২৬ শতাংশই রাজস্বের আওতাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ২৬ শতাংশ পানি সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও চট্টগ্রাম ওয়াসার সিস্টেম লস প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি। একই ধারা বজায় রেখে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য আগাম পরিকল্পনায়ও ২০শতাংশ পানি সিস্টেম লস ধরে রাখা হয়েছে।
বছরের পর বছর ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই বিপুল পরিমানের পানিকে চুরি বা অপচয়কে হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। বছরে ২০ শতাংশ পানি সিস্টেম লস হিসেবে ধরা হলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৫ কোটি লিটার। টাকার অঙ্কে এর মূল্য দাঁড়ায় ৭২ কোটি ২৭ লাখ। আর ২৫ শতাংশ অপচয় বা সিস্টেম লস হলে বছর টাকার অঙ্কে এর মূল্য দাঁড়ায় ৮০ কোটি টাকার উপরে।
অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে ওয়াসার পানি চুরি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। এই অনিয়ম ও চুরি ঠেকাতে ওয়াসার স্মার্ট মিটারের পাইলট প্রকল্পও কোনো কাজে আসেনি।










