মাহে রমজানের সওগাত

মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
60

মাহে রমজানুল মোবারক রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের নিকট হাজির হয়। এটি মহান আল্লাহর নিকট হতে বান্দার জন্য ফেস্টিবলের মাস। এই মাসে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অনেক প্রকার সুযোগের মধ্যে রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য নির্ধারিত। রহমতের দশ দিন বিদায় নিচ্ছে। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে মাগফিরাতের দশ দিন। এই দশ দিন মহান আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের ব্যাপক ক্ষমা করে জান্নাতের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলেন।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঈমানের সাথে পূর্ণ সিয়াম পালন করে মহান আল্লাহ পাক তার পূর্বের সকল পাপ মর্জনা করে দেন। (বোখারী)
প্রিয় নবী মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রমজানের রাতে ঈমানের সাথে পুণ্য লাভের আশায় যে ব্যক্তি দণ্ডায়মান (নামাজ) হয়। তার পূর্ববর্তী সকল গুণা ক্ষমা করে দেন।
রমজান মাসে কত ধরনের গুণা মার্জনা করা হয় এবং কত ধরনের নেয়ামত প্রাপ্তি ঘটে তা আমরা ধারণা করতে পারি না। তাই হাদিস পাকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ.) ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষ যদি মাহে রমজানের রোজার মহাত্মা সম্পর্কে জানত, তাহলে মহান আল্লাহর নিকট সারাজীবন রমজান প্রার্থনা করত।’
রমজান শব্দের ধাতুগত অর্থ বসন্তের প্রথম বৃষ্টি। রমজান মাস পাপ-তাপ দগ্ধ বিশ্ববাসীর জন্য দ্রুত পবিত্রতার সওগাত নিয়ে মুসলিম জাহানে শুভ আগমন করে। রমজান শব্দটির আভিধানিক অর্থের মধ্যেই এ মহান তাৎপর্যের কথা লুক্বায়িত আছে। জমিনে যেমন শ্যামল আর নীলিমায় নীল হয়ে ওঠে অঝোর ধারা বর্ষণে, রমজানের রোজা তেমনি দেহ-মন আত্মাকে কলুষমুক্ত ও পবিত্র করে তুলে। তাই রমজানের আগমনের সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে একজন ফেরেস্তা প্রত্যেক রাতে বলেন, আছ কী কোনো তওবাকারী, যাকে ক্ষমা করা যায়? আছ কী কোনো প্রার্থনাকারী, যার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যায়? সারা রমজান ফেরেস্তাটি বলতে থাকেন এবং রোজাদার বান্দারা এই ফেরেস্তার ডাকে সাড়া দিয়ে ক্ষমা ও তওবা কবুল করিয়ে নেন।
রমজানের রোজা মুসলমানকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সব কিছুকে আয়নার মতো পরিষ্কার করে তোলে। পাপমুক্ত হয়ে নিজের হিংস্র স্বভাবকে ত্যাগ করে আত্মজয়ী হওয়ার বিধানের নাম সিয়াম। সিয়ামের কারণে মানুষের আত্মা পাপমুক্ত হয়, সুন্দর সামাজিক জীবন-যাপন করার চেতনা আত্মস্থ হয়।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আম্বিয়া কেরাম ব্যতীত আদম সন্তান গুনাহ করে আর গুনাহগারের মধ্যে সেই উত্তম যে বেশি বেশি তওবা করে। আল্লাহর নিকট তওবাকারীর চেয়ে বেশি প্রিয় কেউ নেই।’
অন্য এক হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়াতে যদি এজন ব্যক্তিও পাপী না থাকত, তাহলে আল্লাহ পাক এমন এক জাতি সৃষ্টি করতেন, যারা পাপও করত এবং পাপ হতে পবিত্র হওয়ার জন্য তওবাও করত।’
মহান আল্লাহর দরবারে পাপ মার্জনার লক্ষ্যে কেঁদে কেঁদে মোনাজাত করুন, হে আল্লাহ! আপনি রাহমানুর রাহিম, দয়াময় প্রভু, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা আপনার খুবই পছন্দ। আমরা পাপাচারে ডুবে গেছি, কিন্তু আপনার রহমত ও দয়ার নিকট আমাদের পাপ নগন্য। আপনাকে ছাড়া আর কাউকে আমরা প্রভু মানিনি। আপনার ইবাদত ছাড়া আর কাউকে ইবাদত করিনি। আপনি মহা ক্ষমাশীল, ক্ষমা করুন আমাদের, ক্ষমা করে দিন আমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের। মুক্ত করুন মুসলিম সমাজকে। আপনি মুক্তিদাতা।
এভাবে ফরিয়াদ করলে মহান আল্লাহ পাক মাহে রমজানের উসিলায় আমাদের দোয়া কবুল করে দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি দিতে পারেন।

x