প্রথাগত চাষাবাদের চিরাচরিত ধারা বদলে রাঙ্গুনিয়ার কৃষি জমিতে এখন লেগেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। কম খরচে অধিক ফলন আর রোগবালাইমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের নতুন ভরসার নাম ‘মালচিং পদ্ধতি’। এই পদ্ধতিতে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে উপজেলার অনেক কৃষকই আজ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন। আধুনিক এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে জমি পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ফলে আগাছা জন্মানোর সুযোগ থাকে না, সেচ ও সারের অপচয় কমে এবং পোকা–মাকড়ের উপদ্রব অনেকাংশে হ্রাস পায়। প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় কৃষকদের মুনাফার অংক বাড়ছে কয়েকগুণ।
এই চাষাবাদ পদ্ধতির সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী। রাম গতির হাটের পূর্ব পাশে নিজের ২২ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড ‘ইন্দ্রা’ জাতের মরিচ চাষ করে তিনি পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য।
দিদারের দেওয়া তথ্যমতে, তার এই প্রকল্পে বীজ, সার ও মালচিং পেপারসহ আনুষঙ্গিক সর্বমোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ এরই মধ্যে তিনি ৭০ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ এবং ৪০ হাজার টাকার শুকনা মরিচ বিক্রি করেছেন। এছাড়াও তার কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি শুকনা মরিচ মজুদ রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এই মৌসুমে তার মোট আয় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং নিট মুনাফা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
দিদারুল আলমের দেখাদেখি অনুপ্রাণিত হয়ে একই পথে হাঁটছেন বুড়ির দোকান তালুকদার পাড়ার কৃষক রতন চৌধুরী। চাকরির পাশাপাশি কৃষি কাজে যুক্ত রতন চৌধুরী তার ৪ শতক জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তিনি আশা করছেন, তার ক্ষেত থেকে ৭০–৮০ কেজি শুকনা মরিচ পাবেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ এই চার শতক জমিতে তার সর্বমোট খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। তার এই সাফল্য অল্প জমিতেও যে লাভজনক চাষাবাদ সম্ভব, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
কৃষক দিদারুল আলম ও রতন চৌধুরীর মতো উদ্যমী কৃষকদের এমন সাফল্যে খুশি কৃষি বিভাগ। উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার শীল বলেন, দিদারুল ও রতন–উভয়ই অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারা গতানুগতিক চাষাবাদের বাইরে গিয়ে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে, তেমনি মরিচের গুণমান ও ফলনও বেড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস বলেন, আমাদের কৃষকদের প্রথাগত ধারণা থেকে বের করে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ধাবিত করা বর্তমান কৃষি অফিসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মালচিং পদ্ধতি সেই লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। দিদারুল আলম ও রতন চৌধুরীর মতো কৃষকরা যখন এমন সফলতা দেখান, তখন অন্যান্যরাও উদ্বুদ্ধ হন। আমরা রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে এই আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছি।
উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাঙ্গুনিয়ার উর্বর মাটি মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে এভাবে কৃষকরা এগিয়ে আসলে রাঙ্গুনিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।














