নগরের মাদারবাড়ি বালুর মাঠে ১৫ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠ নির্মাণ করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। মাঠের দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ ফুট ও প্রস্থ হবে ১০০ ফুট। এছাড়া মাঠের চারপাশে একটি রাস্তা ও মানুষের হাঁটার জন্য দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাদারবাড়ি বালুর মাঠটি পরিদর্শনে যান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে। তারই অংশ হিসেবে মাদারবাড়ির এই বালুর মাঠকে বেছে নিয়েছি। যাদের বৈধ প্লট আছে, তাদের প্লটের জায়গায়ই থাকবে, তবে মাঠের জায়গা কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। খেলার মাঠ, রাস্তা ও ওয়াকওয়ে; সবমিলিয়ে এখানে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য দূর করতে মাঠের বিকল্প নেই। মাদারবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো খেলার মাঠ নেই, ফলে এখানকার ছেলেরা খেলতে পারছে না। আমরা যদি যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে চাই, তাহলে মাঠের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ করার যে লক্ষ্য, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চট্টগ্রামে ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি মাঠ করতে চাই। এই এলাকার সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রীর সাথে আমার বুধবারও কথা হয়েছে, উনি বলেছেন চট্টগ্রামের উন্নয়নে যা প্রয়োজন ইনশাআল্লাহ করে দেবেন। যদি এই এলাকায় ফুটসাল বা ছোট পরিসরে খেলার মতো আরো কোনো খালি জায়গা থাকে, আমাদের জানান। আমরা সেটাও করে দেবো।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
মেয়র বলেন, আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু–কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, মোজাম্মেল হক, জিয়াউর রহমান জিয়া, মো. আলী ও মুস্তাফিজ রহমান।












