মস্কোর লড়াই শুধু ইউক্রেন নয়, পুরো পশ্চিমা জোটের বিরুদ্ধে

ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানে আরও সেনা পাঠাচ্ছেন পুতিন

| বৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানে আরও সেনা পাঠানোর জন্য সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সেনাদের একটি অংশকে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সেনাদের ডেকে পাঠালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। পুতিনের এ নির্দেশের পরপরই সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিজার্ভ বাহিনীর তিন লাখ সদস্যকে ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেছেন, পশ্চিম দেখিয়েছে রাশিয়াকে ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য এবং তারা ইউক্রেনের জনগণকে কামানের ‘খাদ্যে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। আমাদের লক্ষ্য দনবাসকে স্বাধীন করা। মস্কোর লড়াই শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, পুরো পশ্চিমা জোটের বিরুদ্ধে। পশ্চিমা দেশগুলো যদি ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ অব্যাহত রাখে তাহলে রাশিয়া তার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের সমস্ত শক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এ কড়া হুঁশিয়ারিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে মস্কোর সেনা পাঠানোর পর সেখানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে।
টেলিভিশনে সমপ্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, যদি আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আমরা আমাদের লোকজনকে রক্ষায় সম্ভব সবকিছু ব্যবহার করব। এটা ধাপ্পা নয়। পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়াকে ‘ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের বিরাট অঞ্চলে মস্কো অনুগত নেতাদের ডাকা গণভোটের প্রতি তার সুস্পষ্ট সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে এই গণভোট ডাকা হয়েছে। গণভোটের রায় পক্ষে গেলে মস্কো প্রায় হাঙ্গেরির সমান আয়তনের মতো ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ভূখণ্ডভুক্ত করার সুযোগ পাবে।