বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর এবার ‘ভাঙন’ দেখা দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে। বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনসহ নানা দ্বন্দ্বে জেরবার দলটি থেকে নির্বাচিত বেশ কিছু বিধায়ক এবার দল থেকে বেরিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের ডাক দিয়েছেন। গতকাল সোমবার জি নিউজের এক খবরে বলা হয়, বিধানসভা নির্বাচনে দল থেকে নির্বাচিত ৮০ বিধায়ককে কলকাতায় নিজের কালীঘাটের বাসায় ডেকেছিলেন মমতা। কিন্তু বৈঠকে হাজির ছিলেন না ৬১ জন। তখনই একটা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল কেন এই গরহাজিরা। এর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় খবর হল, ‘ভাঙছে তৃণমৃল কংগ্রেস’। খবর বিডিনিউজের।
দল থেকে সোমবার দুপুরে বহিষ্কার হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত হচ্ছে ‘নয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। নেতাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, এই নয়া তৃণমূল শিবিরে রয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় হারের পর তৃণমূলের ভেতর নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। তবে সামপ্রতিক দ্বন্দ্বের শুরু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা পড়েছিল। ওই চিঠিতে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালি আসনের বিধায়ক সন্দীপন সাহার নাম, সই ও হাতের লেখা জাল করে সমর্থন দেখানো হয়েছিল বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের এ অভিযোগের পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন।
‘সংবাদ প্রতিদিনের’ খবরে বলা হয়, এ নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে সই জাল করে ভুয়া চিঠি জমার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায়। এরইমধ্যে এ ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঋতব্রত ও সন্দীপনের এ অভিযোগের পরপরই তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে বিবৃতি দেয় তৃণমূল। এ ঘটনায় ঋতব্রতও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন অনেক দুর্নীতি হয়েছে। তার কাছে অনেক তথ্য আছে।’ দুর্নীতির বিষয় নিয়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের কাছে তদন্তের দাবি তোলেন তিনি। তবে বিধায়ক পদ তিনি ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ‘এই সময়কে’ দেওয়া এক বক্তব্যে সন্দীপন সাহা বলেন, ‘নৈতিকতার জন্য আমায় বহিষ্কার করা হলে আমি খুশি। অনৈতিক কাজ হয়েছিল বলেই অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। মানুষ কিছুদিন পরেই তৃণমূল দলটা তুলে দেবে।’












