ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালককে কোপ, মীরসরাইয়ে পৌঁছার আগে মৃত্যু

ডাকাতদলের হামলার পর লরির স্টিয়ারিং ধরেন হেলপার

মীরসরাই প্রতিনিধি | বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সড়কের ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ডাকাতদলের হামলার শিকার হওয়ার পর চালকের নির্দেশে লরির স্টিয়ারিং হাতে নেন সহকারী। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চালক ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তার গাড়ি না থামানোর নির্দেশ থাকায় সহকারী হাসপাতাল বা থানায় না গিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান।

এক পর্যায়ে গাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন চালক।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে পার্কিং করা উল্লেখিত লরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লরি চালক জামাল উদ্দিন (৫৬) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।

লরি চালকের সহকারী বেলাল হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাতে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পণ্যবোঝাই লরিটি রওনা দেয়। গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সরু সড়কের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এসময় চার থেকে পাঁচ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লরিতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে লরির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওস্তাদকে (চালক জামাল উদ্দিন) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর ওস্তাদ যখন বুঝতে পারে এরা ডাকাত, তখন তিনি গাড়ি আরো দ্রুত চালিয়ে কিছুদূর পার হয়ে জখম বেঁধে কোনোভাবে হেলান দিয়ে আমাকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন।

বেলাল হোসেন আরও জানান, গুরুতর আহত হওয়ার পরও চালক আমাকে কোনো স্থানে না থেমে গাড়ি চালিয়ে যেতে বলেন। আমি আতঙ্কিত অবস্থায় লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত আসি। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই ওস্তাদ মারা যান। পরে বিষয়টি অন্য চালকদের জানিয়ে লরিটি মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের ফারদিন মডেল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসি এবং স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানাই।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওসি হালিম আরও বলেন, ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা মামলাসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
পরবর্তী নিবন্ধবন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বেশি ফোকাস