ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের সঙ্গে তুলনায় আসা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ স্বীকৃতি। এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সেটা অর্জন করে নিয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম। দারুণ ছন্দে থাকা ইংলিশ মিডফিল্ডারকে দেখে জিদানের কথা মনে পড়ছে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জন টেরির। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমি–ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বেলিংহ্যাম। মিডফিল্ডার হয়েও ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটে লড়াইয়ে আছেন তিনি। গোল্ডেন বলের বিবেচনায়ও তিনি থাকবেন প্রবলভাবেই। গোল করার পাশাপাশি করাচ্ছেন, গোটা মাঠ দাপটে ছুটে বেড়াচ্ছেন। রক্ষণে নেমে উপযুক্ত সময়ে ব্লক করে দলকে রক্ষা করছেন। বিশ্বকাপে ছয় গোল করা প্রথম মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম। ১৯৮৬ আসরে দিয়েগো মারাদোনার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই ম্যাচে জোড়া গোলের প্রথম কীর্তি এটি। ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর প্রবল চাপের ম্যাচে জোড়া গোল করেন বেলিংহ্যাম। রুদ্ধশ্বাস সেই লড়াইয়ে ৩–২ ব্যবধানে জেতে ইংল্যান্ড। পরে নরওয়েকে ২–১ ব্যবধানে হারানো কোয়ার্টার–ফাইনালে ইংল্যান্ডের দুটি গোলই করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন জিদান। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে ৩–০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। পরে তার নেতৃত্বে ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলে ফরাসিরা। সেবার তিনটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। পরে টাইব্রেকারে হেরে হৃদয় ভাঙে ফ্রান্সের। ফিফা পডকাস্টে টেরি বলেন, সেই সময়ের জিদানের কথা বেলিংহ্যামকে দেখে মনে পড়ে যায় তার। খবর বিডিনিউজের।
“বিশ্বকাপের শুরুতে বলেছিলাম, সে আমাকে জিদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই মুহূর্তে সে একাই দলটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে সে বিশ্বমানের ফুটবলার। এছাড়া, মাঠের বাইরে তার কথা শুনলে বোঝা যায়, তার মধ্যে দারুণ একটা স্থিরতাও আছে।” সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার টেরির সঙ্গে একমত ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জিবের্তো সিলভা। ২০০৬ আসরে জিদানের ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে কোয়ার্টার–ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। ওই দলের অংশ ছিলেন জিবের্তো। “এসব বড় ম্যাচগুলোয় তারকা খেলোয়াড়দের এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হয়। আর গত দুই বছর ধরে সে এটাই করে দেখাচ্ছে, প্রথমে রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে এবং এখন বিশ্বকাপে। আমার মনে হয়, তার থেকে আরও অনেক কিছু পাওয়ার আছে। এক দিক থেকে সে জিদানের মতোই। জেটি (জন টেরি) বেলিংহ্যামের সঙ্গে যে তুলনা করেছে, তা যৌক্তিক।” ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ১৯৯৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংলিশরা। এবার হ্যারি কেইনের দলের হাত ধরে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে তাদের, আত্মবিশ্বাসী টেরি। “সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। তাদেরকে আমাদের চেয়ে ভালো মনে করছি না। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়ে–খেলোয়াড়ে তুলনা করলে আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে আছি।












