সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ঈশা দাশ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সাতকানিয়ার ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মিঠাদিঘী স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও ছদাহা দাশ পাড়ার সুনীল দাশের মেয়ে।
এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঘাতক বাসটি ভাংচুর করে। এছাড়া সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও বসে থেকে অবরোধ করে রাখে। ফলে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবিগুলো পূরণের প্রতিশ্রুতির পর সাতকানিয়া থানা ও দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ঈশা দাশ দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্কুলের নিকটবর্তী মিঠাদিঘী স্টেশনে কয়েকজন বান্ধবীসহ সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় স্টার লাইন পরিবহনের চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগামী একটি বাস ঈশা দাশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশা দাশ মারা যায়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, বাসের ধাক্কায় ঈশা দাশ আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও বসে থেকে অবরোধ করে রাখে। পরে অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে সড়কে গতিরোধক স্থাপন, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করাসহ কিছু দাবি তুলে ধরে। তাদেরকে দাবিগুলো পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর তারা সড়ক থেকে সরে যায়। প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে স্কুলের সামনে সড়কে গতিরোধক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্কুল ছাত্রীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।












