বান্দরবান সদর হাসপাতালে এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা এগারোটায় তদন্ত কমিটি সদর হাসপাতালে পরিদর্শন করে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর।
পার্বত্য জেলা পরিষদের তথ্য মতে, বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন কর্তৃক সদর হাসপাতালের জন্য এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। ৩০ জুন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ওষুধ যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নয়ছয় শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটিকে আগামী ২ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
এদিকে বুধবার সকালে এগারোটা থেকে সদর হাসপাতালে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধসহ যন্ত্রপাতি মালামাল সরবরাহের ছয়টি ভাগে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তাদের অভিযোগ– টেন্ডারে দরপত্রের গোপন মূল্যকোড পছন্দের ঠিকাদারদের সরবরাহ করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজগুলো ভাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে সিন্ডিকেট। টেন্ডারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম নামে ৫টি এবং আলমগীর নামে ১টি কাজ ভাগিয়ে নেন সিন্ডিকেটের সদস্য ঠিকাদার। কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয় ১৩ জুন ২০২৬। কার্যাদেশ মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। আহ্বানকৃত টেন্ডারে ওষুধ সরবরাহে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, পার্বত্য পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, বেন্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, লিলেন ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ফার্নিচার ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
এ টেন্ডার প্রক্রিয়া কমিটির সদস্যরা হলেন–সভাপতি ডা: সানাই ত্রিপুরা, সদস্য সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: উথেন ক্য, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: অতনু চৌধুরী, সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী। সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম সরবরাহের দরপত্রে চার কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর জানান, গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সদর হাসপাতালে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। তখন বিস্তারিত জানানো হবে।











