বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী

| বুধবার , ১ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি বিবেচনায় বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ নৈশভোজ হয়, যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এবার এ আয়োজন বাতিল হওয়ায় সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাসের পর তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদেরও আপ্যায়ন খরচ ‘কাটছাঁট’ করা হয়েছে বলে তথ্য দেন রুমন। খবর বিডিনিউজের।

এদিন জাতীয় সংসদে একাধিক সংশোধনীর পর ২০২৬২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে। বাজেট পাস উপলক্ষে এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মব্যস্ত সময়ও পার করেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহ আইন প্রণয়ন কার্যাবলীতে অংশ নেন তিনি। অধিবেশনের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাফতরিক কাজ সারার পাশাপাশি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন বলেও তুলে ধরেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদের আপ্যায়ন খরচ ‘কাটছাঁট’ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন ২০১৮১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

আগে পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদের খাবার সরবারহ করত। বিগত সরকারের সময়ে করপোরেশনের কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়েছে গেছে; যা বর্তমান সরকারকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও ভাষ্য তার। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বোর্ডে এবার কলেজ বেড়েছে, কমেছে পরীক্ষার্থী
পরবর্তী নিবন্ধআদালতের রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি