নগরীর ডিসি রোড এলাকায় রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি খুনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– মাহমুদুল হাসান প্রকাশ সোহেল ও আইয়ুব আলী প্রকাশ বাবুল। রায় ঘোষণার সময় এ দু’জন কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তারা পলাতক। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর দৈনিক আজাদীকে বলেন, ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেছেন। ২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট নগরীর বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের এলাকার জামাল বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি পলাশ খুনের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্ত করে পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে বিচারক চার্জগঠনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন। মামলার এজাহারসহ নথিপত্রে দেখা যায়, খুনের শিকার পলাশ নেত্রকোণার আটপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় থাকা কফি ম্যাক্স নামের মিনি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। চাচাত ভাই মামুনসহ ডিসি রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। ঘটনার এক বছর আগে পলাশের ফুফাতো ভাই নুরুল আমিন নেত্রকোণা থেকে চট্টগ্রামে আসলে তাকে একই রেস্টুরেন্টে থালা–বাসন ধোয়ার কাজ নিয়ে দেন পলাশ। দণ্ডপ্রাপ্ত আইয়ুব আলী ওই রেস্টুরেন্টে টেবিল বয় হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে নুরুল আমিনের সঙ্গে আইয়ুব আলীর পরিচয় হয়। পরে আইয়ুব আলী ও নুরুল আমিন কফি ম্যাঙ রেস্টুরেন্টের চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য দোকানে কাজ নেন। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে আইয়ুব আলীর মনোমালিন্য হয়। ২০০৯ সালের ২৭ অগাস্ট তথা ঘটনার দিন নুরুল আমিন চাকরি ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে চলে যায়। ওই ঘটনার জন্য পলাশকে দায়ী করে আয়ুব আলী। সেদিন রাতে মাহমুদুল হাসান সোহেল ও আইয়ুব আলী মিলে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আঘাত করলে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশের মৃত্যু হয়।












