বাংলাদেশের পতঙ্গখেকো উদ্ভিদ

রাজন বড়ুয়া | বুধবার , ২২ জুন, ২০২২ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

আমরা কম-বেশি সকলেই পতঙ্গভুক প্রাণীর কথা জানি। কিন্তু যখন পতঙ্গভুক উদ্ভিদ বলা হয়, তখন মনে একটু দ্বন্দ্ব লাগার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমন উদ্ভিদও রয়েছে যেগুলো সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের খাদ্য তৈরি করলেও সাধারণত পোকমাকড়, প্রোটোজোয়া বা অন্যান্য সন্দীপদ প্রাণীদের ফাঁদে ফেলে খাবার হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশে সূর্যশিশির, জলজঝাঝি নামে দু’টো প্রাণীখেকো উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সূর্যশিশির: যার ইংরেজি নাম Sundews এবং বৈজ্ঞানিক নাম Drosera rotundifolia । বাংলাদেশে ঢাকার কিছু জায়গায়, চট্টগুামের পাহাড়ি ঢালে এবং সিলেট ও রংপুর অঞ্চলের কিছু জায়গায় এই উদ্ভিদগুলো দেখা গেলেও এটি বর্তমানে বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায়। তবে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর দিকে পরিত্যক্ত ভূমিতে এই উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া ২০২২ সালের দিকে রংপুর ও সিলেটেও এই উদ্ভিদ দেখা গেছে।

সূর্যশিশিরের সুগন্ধে আকৃষ্ট হয়ে পতঙ্গ যখন এগিয়ে যায় তখন ফুলের রোমের আগায় শিশিরের মতো আঠায় আটকা পড়ে। নড়াচড়া করলে আরো জড়িয়ে যায়। এ সময় পাতার গ্রন্থি থেকে আরো আঠালো রস বের হতে থাকে। এরপর পোকার চারপাশের বোঁটাগুলো বেঁকে পেয়ালার মতো হয়ে যায়। এরপর পরিপাকের এনজাইম বের হয়ে পোকার দেহের নরম অংশ পাতার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে। কিছুদিন পর পাতা ও বোঁটাগুলো আবার আগের মতো সোজা হয়ে যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিক, ইউরোপ, আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের কিছু কিছু জায়গার এগুলো দেখা যায়।

জলজঝাঝি: দৈনিক প্রথম আলো সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার জয়দীয়া বাঁওড়ে ওই উদ্ভিদটি খুঁজে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এটি মূলত পতঙ্গকে ফাঁদে ফেলে খায়। সূযের্র আলো, পানি থেকে সংগ্রহ করা কিছু খাদ্য উপাদান ও পতঙ্গ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে এরা বেঁচে থাকে। পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় থাকা এ উদ্ভিদ কোনো পতঙ্গ এলে পাতাগুলো পানির ওপর ভাসিয়ে দেয়। এরপর পতঙ্গ বসলে একজাতীয় রস ছেড়ে পতঙ্গকে আটকিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে পাতাটি চারদিক থেকে আবদ্ধ হয়ে গেলে পতঙ্গটি মারা যায়। তখন জলঝাঝি ওই পতঙ্গের দেহ থেকে পুষ্টি ও প্রোটিন সংগ্রহ করে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গবেষক দলটি ওই উদ্ভিদটির নমুনা সংগ্রহ করে। তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের একটি কংক্রিটের কুয়াতে এনে রাখা হয়। পরে তা বিভাগের নিজস্ব বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। উদ্ভিদটি জীবন্ত অবস্থায় সবুজ রঙের হয়, আকৃতি হয় লম্বাটে। ১ দশমিক ৮ মিটার থেকে আড়াই মিটার দৈর্ঘ্য আর ১ দশমিক ৮ মিলিমিটার প্রস্তের হয় এটি। জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে এতে হলুদ রঙের ফুল ফোটে।