বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহে আগ্রহী পাকিস্তান

| বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান সম্ভাব্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে ঢাকার কাছে জেএফ১৭ থান্ডার জেট ফাইটার বিক্রির প্রস্তাবও রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনী এমন এক সময়ে এই আলোচনার খবর দিল যখন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে এবং পাকিস্তান তাদের অস্ত্র বিক্রির বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগী হয়েছে। গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর সফলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা খাতের ব্যবসা আরো চাঙ্গা করতে চাইছে ইসলামাবাদ। পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে তিন দশকের সবচেয়ে তীব্র ওই সংঘাতে সাফল্য পেয়েছিল জেএফ১৭ থান্ডার জঙ্গি বিমান। খবর বিডিনিউজের।

পাকিস্তানের আইএসপিআর গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনগত সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে জেএফ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে পাকিস্তান যৌথভাবে এই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট তৈরি করেছে। বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক ট্রেইনার বিমান দ্রুত সরবরাহ করার এবং সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা বিমানবাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক ভাষ্য এখনো আসেনি। রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধানের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনী বলেছে, বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধানের ইসলামাবাদ সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরো মজবুত করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

অস্ত্র বিক্রি সম্প্রসারণ : পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর উদ্যোগের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে জেএফ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। ইতোমধ্যে আজারবাইজানকে এই জঙ্গি বিমান বিক্রির বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গেও চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, তার দেশের অস্ত্র শিল্পের সফলতা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের বিমানের এত অর্ডার আসছে যে, ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানকে আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় গ্রুপিং ভুলে এক মঞ্চে বিএনপির শীর্ষ চার নেতা
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়রের তিন বছরের কারাদণ্ড