আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এতদিন ক্লাওদিও কানিজিয়া দেখেছেন দূর থেকে। স্পোর্টাম্যাজিকা ও ফর্টিস এফসির আমন্ত্রণে ঢাকায় এসে তা দেখছেন স্বচক্ষে। এ দেশের মানুষের উঞ্চতা, আতিথেয়তা, ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে তাকে। আপ্লুত কণ্ঠে এই আর্জেন্টাইন গ্রেট একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার আশাবাদ জানালেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে লম্বা আলাপচারিতায় কানিজিয়া কথা বললেন, সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জিততে না পারা, লিওলেন মেসির হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ না ওঠা, কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার সাথে তার সেই আলোচিত চুমু কাণ্ড থেকে শুরু করে হামজা চৌধুরীসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে। খবর বিডিনিউজের।
শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন তিনি। ‘এখানকার মানুষ চমৎকার। বাংলাদেশে থাকতে আমার খুব ভালো লাগছে, কারণ এখানকার মানুষ ভীষণ ফুটবলপ্রেমী। আমি কিছু মানুষের সাথে কথা বলেছি, তারাও বলছিল যে, বাংলাদেশ সাধারণত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে অনুসরণ করে। তাই প্রথমবার এখানে এসে মানুষকে কাছ থেকে জানাটা আমার জন্য আনন্দের। যেমনটা বললাম, বাংলাদেশে যে এত মানুষ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে এতে আমি মোটেও অবাক হইনি। জাতীয় দলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের জয়, বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে, তারা যেভাবে উদযাপন করেছে তা দারুণ। এটি ১৯৮৬ সালের দিকে, যখন দিয়েগো মারাদোনা জাতীয় দলের হয়ে খেলতেন, তখন থেকে শুরু হয়েছিল। আমি আবার বলছি, এখানে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে এবং আমি বেশ উপভোগ করছি।’ অদূর ভবিষ্যতে ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চান কানিজিয়া। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন দেখছেন তিনি। ‘আমরা জানি, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সবসময়ই কঠিন। বিশ্বজুড়ে অনেক দল আছে এবং তারা দ্রুত উন্নতি করছে। গত ১০ বা ২০ বছরে অন্যান্য জাতীয় দলগুলো যেভাবে উঠে এসেছে, আমি চাই বাংলাদেশও সেভাবে গড়ে উঠুক। এখন তো বিশ্বকাপে ৪৮টি দল খেলছে, হয়তো সামনেরটায় ৬২ বা ৬৪টি দল খেলবে। তাই আমরা চাই বাংলাদেশ যেন বাছাইপর্ব পার করে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। পথটা সহজ নয়, তবে এটা নির্ভর করবে কোচ, সরকার, পরিবেশ এবং আপনারা কতটা পরিশ্রম করছেন তার ওপর। যাদের প্রতিভা আছে, তাদের সেরাটা বের করে এনে বিশ্বকাপে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। ১৯৯৬ সালে বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের মধ্যকার ম্যাচ শেষে মারাদোনার ঠোঠে দেওয়া সেই চুম্বন নিয়ে কানিজিয়া বললেন, ‘ফ্রেন্ডলি কিস’। ২০০২ বিশ্বকাপে নিজের পাওয়া লাল কার্ড তার চোখে ‘রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত’। মারাদোনা ও মেসির মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নটা অবশ্য তিনি এড়িয়ে গেলেন। ফুটবল ইতিহাসের সেরা তিন খেলোয়াড় হলেন পেলে, মারাদোনা ও মেসি।












