চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জাহাজ অবস্থান করছে ৬০টির মতো। এরমধ্যে ড্রাফট এবং ল্যান্থ অনুমোদিত পর্যায়ে থাকায় কেবলমাত্র ৪টি জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে। বাকি জাহাজগুলো পণ্য খালাস করবে বহির্নোঙরে। লাইটারেজ জাহাজের সাহায্যে এসব পণ্য খালাস করে দেশের অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন রুটে পরিবহন করা হবে। কিন্তু লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (বিডব্লিউটিসিসি) চারদিন পর (গেলো সোমবারের পর) গতকালই কেবল বার্থিং মিটিং করে ১৬টি জাহাজ বরাদ্দ দিয়েছে। ১০টি মাদার ভ্যাসেলের বিপরীতে উক্ত জাহাজগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। অবশ্য, বিডব্লিউটিসিসির বাইরে শিল্প গ্রুপগুলো নিজেরাই লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনা করে। চোরাগুপ্তা পথেও পরিচালিত হয় লাইটারেজ জাহাজ।
বহির্নোঙরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদার ভ্যাসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। ভারী বৃষ্টি এবং সাগর উত্তাল হওয়ায় বহির্নোঙরে পণ্য হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রামে প্রায় ৪শ’ লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এদিকে বন্দরের জেটি এবং ইয়ার্ডে কন্টেনার লোড, আনলোড ও ডেলিভারি কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু ইয়ার্ডে পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার ও অতিভারী বৃষ্টির সময় এক–দেড় ফুট পানি উঠলেও কিছুক্ষণ পর তা নেমে যাওয়ায় কাজকর্ম বিঘ্নিত হলেও বন্ধ হয়ে যায়নি।
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত, অতিভারী বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে কার্যত পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। চার–পাঁচ দিন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল। সেলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, গেলো সোমবারের পর আর কোনো জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কোনো জাহাজই সাগরে যায়নি। গতকাল বার্থিং মিটিং হয়েছে। ১০টি মাদার ভ্যাসেলের বিপরীতে ১৬টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এই জাহাজগুলো সাগরে গিয়ে কাজ করতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ৪শ’ লাইটারেজ জাহাজ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছে। কিছু লাইটার কর্ণফুলী নদীর উজানে অবস্থান করছে। যেগুলো নদীতে ঢুকতে পারেনি সেগুলো পতেঙ্গা উপকূলে রয়েছে। এ জাহাজগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি লাইটার জাহাজ পতেঙ্গা উপকূলের পাথরে উঠে গেছে বলে শুনেছি। যে জাহাজগুলো ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ থেকে বহির্নোঙরে পণ্য লোড করতে যাচ্ছিল সেগুলোকে হাতিয়া, চাঁদপুর এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব জাহাজ সাগরে রওনা হবে।
তিনি বলেন, বড় জাহাজের ক্যাপ্টেন বৈরী আবহাওয়ায় লাইটারিংয়ের অনুমতি দেন না। প্রথমত তাঁরা ঝুঁকি নিতে নারাজ। দ্বিতীয়ত আমদানিকারকের মূল্যবান পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তৃতীয়ত লাইটার জাহাজ ডুবি ও নাবিকদের প্রাণহানির শঙ্কা থাকে। সাগর উত্তাল হলে বড় মাদার ভ্যাসেলের গায়ের সাথে ছোট লাইটারেজ জাহাজ স্থির থাকতে পারে না, দুলতে থাকে। এতে বড় জাহাজের ঝুঁকির পাশাপাশি লাইটারেজ জাহাজও ঝুঁকিতে থাকে।
বন্দরের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আটটায় বহির্নোঙরে মোট জাহাজ ছিল ৬০টি। এর মধ্যে লাইটারিং হয়নি ৫২টি জাহাজে। একটি ক্লিংকার ও দুইটি অয়েল ট্যাংকারে লাইটারিং হয়েছে। এ সময় বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে ২ হাজার ৬০৬ টিইইউএস কন্টেনার। আগের দিন যা ছিল ৩ হাজার ৬৭৫ টিইইউএস। ২৪ ঘণ্টায় বন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছে ৫ হাজার ২৩০ টিইইউএস। যা স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম। বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।











