বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের গোখাদ্য ও কৃষকদের বীজ বিতরণ

তিন বছরে সব কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড : কৃষি মন্ত্রী

চন্দনাইশ ও পটিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেছেন, বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ এ অঞ্চলের কৃষক ও ডেইরি খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পাশে রয়েছে। গবাদিপশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান এবং গোখাদ্য বিতরণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কৃষকদেরও প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

তিনি গতকাল শুক্রবার সকালে চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভাধীন বেগম বাজার এলাকায় বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চট্টগ্রামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের মাঝে গোখাদ্য (গমের ভূসি) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিরা গোখাদ্যের অভাবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। এই দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে গোখাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময় মন্ত্রী উপজেলা কৃষি বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত বীজ বিতরণ ও বীজতলা উদ্বোধনকালে বলেন, সরকার কৃষকদের কথা ভেবে সবজি সংরক্ষণে প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি হিমাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসময় মন্ত্রী কৃষি মাঠে নেমে বীজ ছিটিয়ে বীজতলা উদ্বোধন করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন, চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার, বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আনোয়ার উল্লাহ পাভেল, নুরুল হুদা, যুগ্ম সম্পাদক কাউসার শাহ, আব্দুর রাজ্জাক রাজন ও আইন বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পটিয়া : গতকাল বিকেলে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে সরকার অনলাইনে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় আড়াই কোটি থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রমে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫ হাজার কৃষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক কৃষককে সঠিক তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী নিবন্ধন বুথ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, অনলাইন নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না থাকে। প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়ার এমপি এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াস, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে ভাসে হালদাপাড়ের মানুষ
পরবর্তী নিবন্ধবান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন করবে সরকার